ইসরাইলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯ বার

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে সোমবার ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার একটি বিল পাস হয়েছে, যা দেশটির সরকারকে এখন থেকে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগের অনুমতি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী মিত্রদের উত্থাপিত এই বিল নেসেটের প্রাথমিক পাঠে পাস হয়, যেখানে ১২০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৯ জন পক্ষে এবং ১৬ জন বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আরও যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিলটি ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরের ইহুদি শক্তি দল প্রস্তাব করেছিল। এই আইন অনুযায়ী, যদি কেউ ঘৃণা বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ইসরাইলের নাগরিকদের হত্যা করে, তাহলে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যেতে পারে। অধিবেশনের সময় আরব আইনপ্রণেতা আয়মান ওদেহ এবং বেন-গাভিরের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, যা প্রায় মারামারির পর্যায়ে পৌঁছায়।

বেন-গাভির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছে, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং তার দল তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করেছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এই বিলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, আইনটি বিশেষভাবে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি ইসরাইলের বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে আরও গভীর করবে।

এর আগে ৩ নভেম্বর ইসরাইলি সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার একটি বিল উত্থাপন করেছিল। পরবর্তীতে ১০ নভেম্বর বিলটি নেসেটে প্রথম পাঠের জন্য আনা হলে তা প্রাথমিকভাবে পাস হয়। এই আইন পুরোপুরি কার্যকর হলে, ১৯৬২ সালের পর ইসরাইল প্রথমবারের মতো মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর করবে। উল্লেখ্য, তখন ইসরাইল নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইচম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।

বিলটি পাসের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায় এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, এটি শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের জন্য লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ এবং বৈষম্য আরও বাড়াবে। এছাড়া দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইনকে কেন্দ্র করে ইসরাইলি সমাজে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের সরকার বলেছে, আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রক্রিয়া এবং বিচারিক নীতি মেনে চলা হবে। তবে ফিলিস্তিনি নেতারা ও মানবাধিকার গ্রুপের মতে, এটি শান্তি প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নতুন ধরনের হুমকি সৃষ্টি করবে। আইনটি কার্যকর হলে, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ না করার রীতিকে বাতিল করবে এবং এটি ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত