নারী কাবাডি বিশ্বকাপে রেফারী হয়ে দিনাজপুরের সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর গৌরব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার
নারী কাবাডি বিশ্বকাপে রেফারী হয়ে দিনাজপুরের সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর গৌরব

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন এক গর্বের অধ্যায়। দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপে রেফারী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের সন্তান সৈয়দ মোহাম্মদ আলী। তার এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, উত্তরাঞ্চল তথা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন।

সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বর্তমানে পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে বিএসএস ও এমএসএস সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে বিপিএড ও এমপিএড ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা করলেও ক্রীড়ার প্রতি তার গভীর অনুরাগ ও নিষ্ঠা তাকে এনে দিয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি।

বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের রেফারিজ কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য-সচিব মো. মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ৯ নভেম্বর সৈয়দ মোহাম্মদ আলীকে দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপে রেফারী হিসেবে মনোনীত করা হয়। ওই চিঠিতে জানানো হয়, আগামী ১৫ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মিরপুরস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ‘২য় নারী কাবাডি বিশ্বকাপ-২০২৫’। টুর্নামেন্টটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ফেডারেশন কর্তৃপক্ষ তাকে টেকনিক্যাল অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।

এই মনোনয়নকে ঘিরে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে এখন উৎসবের আমেজ। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা গর্বের সঙ্গে বলছেন, এমন একজন শিক্ষকই তাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। ভবানীপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমরেশ চন্দ্র দাস বলেন, “সৈয়দ মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়, আন্তঃজেলা ও জাতীয় পর্যায়ের কাবাডি ম্যাচে রেফারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বই তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অংশগ্রহণ আমাদের জন্য এক বিরল সম্মান।”

আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় রেফারী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সহজ বিষয় নয়। বছরের পর বছর কঠোর প্রশিক্ষণ, নিয়ম-কানুনে দক্ষতা এবং খেলার গভীর অনুধাবন প্রয়োজন হয়। সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর ক্ষেত্রেও তা ভিন্ন নয়। নিজের যোগ্যতা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি অর্জন করেছেন এই স্বীকৃতি। তার পরিচালনায় এর আগে বেশ কয়েকটি জাতীয় কাবাডি প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে ‘তারুণ্যের উৎসব কাবাডি প্রতিযোগিতা’-তে তিনি দেশের সেরা পাঁচ রেফারির একজন নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, উদীয়মান রেফারী হিসেবে আলীর নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও খেলার প্রতি গভীর ভালোবাসা তাকে এই গৌরবময় দায়িত্বের যোগ্য করে তুলেছে। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তার মতো তরুণরা ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এবারের নারী কাবাডি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, চাইনিজ তাইপে, ইরান, কেনিয়া, নেপাল, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, জার্মানি ও জাঞ্জিবারসহ মোট ১২টি দেশ। প্রতিযোগিতাটি শুধু খেলাধুলার ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের খেলায় রেফারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সম্মান ও আনন্দের। এটি যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি গর্বেরও বিষয়। আমার কলেজের সভাপতি, অধ্যক্ষ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি যেন দেশের সুনাম রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করতে পারি।”

তার এই অর্জনে ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও দিনাজপুরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, তার এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং ছোট শহর থেকেও যে বড় মঞ্চে পৌঁছানো যায়, তা প্রমাণ করলেন সৈয়দ মোহাম্মদ আলী।

সত্যিকার অর্থে, তার এ অর্জন শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—এটি বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত