উৎসবের আমেজে মুজা–সানজানার নতুন গান ‘মাইয়া’তে রোমান্স ও ব্যক্তিত্বের সুর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার
উৎসবের আমেজে মুজা–সানজানার নতুন গান ‘মাইয়া’তে রোমান্স ও ব্যক্তিত্বের সুর

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিয়ের মৌসুমে গান মানেই আনন্দ, রঙ, আর ভালোবাসার গল্প। ঠিক সেই আবহ নিয়েই শ্রোতাদের জন্য নতুন গান নিয়ে হাজির হয়েছেন সময়ের আলোচিত তরুণ সংগীতশিল্পী মুজা। গানটির নাম ‘মাইয়া’। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন নবীন শিল্পী সানজানা। রোমান্টিক কথামালার এই গানটি ইতোমধ্যে অনলাইনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে।

‘মাইয়া’র কথাগুলো সহজ, গ্রামীণ আবেগে ভরা—‘মাইয়ার কথা আমার এতো ভালো লাগিল, পোলা আমার কথা শুইনা প্রেম জাগিল।’ তবে এর সরলতায়ও আছে গভীর বার্তা। গানের সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী মুজা জানান, গানের কথায় তিনি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, একজন নারীর ব্যক্তিত্ব ও স্বকীয়তাকেও গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন। তার ভাষায়, “আমরা প্রায়ই কাউকে শুধু তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই, কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলার পর যদি তার চিন্তাভাবনা, ব্যক্তিত্ব আমাদের ছুঁয়ে যায়, তখন ভালো লাগা আরও গভীর হয়। ‘মাইয়া’ সেই অনুভূতির প্রকাশ।”

গানটির সৃষ্টিপ্রক্রিয়া নিয়েও মুজা জানালেন একটি বিশেষ গল্প। তিনি বলেন, “বিয়ের মৌসুম ঘিরেই গানটি তৈরি করেছি। কারণ উৎসবের সময় মানুষ আনন্দ খোঁজে, আর সেই আনন্দে সংগীতের ভূমিকা অপরিসীম। এটি আমার কাছে অনেক স্পেশাল একটি গান, কারণ এখানে আমি নিজের কণ্ঠে কোনো প্রতিধ্বনি (ইকো) ব্যবহার করিনি। সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করেছি, যা শ্রোতাদের জন্য একদম ফ্রেশ সাউন্ড হিসেবে আসবে।”

‘মাইয়া’ গানের সুরে পপ ঘরানার ছোঁয়া থাকলেও এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালির ভাব। মুজা বলেন, “বাংলা গানের শিকড় গ্রামীণ, কিন্তু আমরা আধুনিক যন্ত্র ও সুরের মিশেলে সেটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিতে পারি। ‘মাইয়া’ সেই প্রয়াসেরই অংশ।”

এই গানে সঙ্গী হয়েছেন তরুণ শিল্পী সানজানা, যিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী ও মডেল। ছয় বছর বয়স থেকেই গান শিখছেন তিনি। যদিও বর্তমানে ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত, তবুও সংগীতের প্রতি তার টান আজও অটুট। সানজানা বলেন, “মুজার সঙ্গে আমার পরিচয় তার প্রথম গান প্রকাশের সময় থেকেই। ‘মাইয়া’ গানটির শুরুটা যেন এক সিনেমার দৃশ্য—স্টুডিওর অন্ধকার দরজা খুলতেই আমাদের দেখা, শুভেচ্ছা বিনিময়, আর তারপরেই শুরু হলো কাজের গল্প।”

তিনি যোগ করেন, “আমি গানটি রেকর্ডিং করার সময় খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। কারণ গানের প্রতিটি শব্দে একটা মিষ্টি অনুভব আছে। এখানে নারী চরিত্রটিকে শুধু সুন্দর নয়, প্রাণবন্ত ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমন একটি গানে কণ্ঠ দেওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের।”

‘মাইয়া’ গানের কথা লিখেছেন মুজা ও বাঁধন। সংগীত প্রযোজনায় ছিলেন মুজা ও ডেডবানি, আর সংগীতায়োজনও করেছেন মুজা নিজেই। গানের নাচের দৃশ্যগুলোতে অংশ নিয়েছেন আরএস প্রোডাকশনের সহ নৃত্যশিল্পীরা। ভিডিওটি চিত্রায়িত হয়েছে রঙিন আলো, নাচ ও উৎসবমুখর দৃশ্যের সমন্বয়ে, যা বিয়ের মৌসুমের উচ্ছ্বাসকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

মুজা বলেন, “গানটি নিয়ে আমি যতটা উচ্ছ্বসিত, তার চেয়েও বেশি আনন্দিত প্রতিক্রিয়া দেখে। প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই গানটি ৫০ হাজারের বেশি মানুষ দেখেছেন ও শুনেছেন। এমন ভালোবাসা পাওয়া একজন শিল্পীর জন্য অমূল্য।”

গানের ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রোতারা প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন শিল্পী যুগলকে। কেউ লিখছেন, “এই গান বিয়ের সিজনের প্লেলিস্টে জায়গা পাবে।” কেউবা বলছেন, “বাংলা গানে এমন সতেজতা অনেকদিন পর দেখলাম।”

মুজার আগের গানগুলোতেও শ্রোতারা পেয়েছেন বৈচিত্র্য ও গভীরতা। তিনি বিশ্বাস করেন, “গান শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষের অনুভূতির ভাষা। তাই আমি চাই প্রতিটি গান এমন হোক, যা শুনে মানুষ কিছুক্ষণ নিজের জীবনের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পায়।”

অন্যদিকে নবীন শিল্পী সানজানা এখনো নিয়মিত সংগীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “শ্রোতাদের ভালোবাসাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ‘মাইয়া’ দিয়ে আমি সেই ভালোবাসা অনুভব করেছি। সামনে আরও কাজ করার ইচ্ছে আছে।”

বিয়ের মৌসুম, প্রেমের আবহ আর তরুণ প্রজন্মের আবেগ—সবকিছু মিলিয়ে ‘মাইয়া’ এখন একটি মৌসুমি সংগীতপ্রবাহের প্রতীক হয়ে উঠছে। শিল্পী মুজা বিশ্বাস করেন, এই গান শুধু উৎসবের গান নয়, এটি এক ধরনের জীবনবোধ—যেখানে ভালোবাসা মানে সৌন্দর্যের সঙ্গে মানবিকতার মিলন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত