বিবিসি ভেরিফাই জানালো, গাজায় ইসরাইল কতটি ভবন ধ্বংস করেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২ বার
বিবিসি ভেরিফাই জানালো, গাজায় ইসরাইল কতটি ভবন ধ্বংস করেছে

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ১৫০০’রও বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি ভেরিফাই। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পরপরই এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয় এবং মাত্র এক মাসের কম সময়ে পুরো পাড়াগুলো প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিবিসি ভেরিফাই-এর জন্য সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট চিত্রগুলোতে দেখা যায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোতে বিস্ফোরকের মাধ্যমে আক্রমণ করা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, স্যাটেলাইট ছবির সম্পূর্ণ কভারেজ পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃত ধ্বংসের পরিমাণ এই হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ধ্বংসের ঘটনা যেন একেবারে শর্ত লঙ্ঘনের মতো মনে হচ্ছে। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা কাজ করছে যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যে এবং যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যাচ্ছে তা পরিকল্পিত ও প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ডের অংশ।

গত কয়েক মাসে গাজায় বিভিন্ন সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন এবং নাগরিক বসতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকার বেশিরভাগ ভবন বসতি, স্কুল ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ধ্বংসের কারণে সাধারণ মানুষদের জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে, যেটি মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বিবিসি ভেরিফাই আরও উল্লেখ করেছে, ধ্বংসের চিত্রগুলো স্থানীয় সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলছে। বাসস্থান হারানো মানুষরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে, এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মানবিক সহায়তা প্রদানকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের ধ্বংসযজ্ঞ শুধুমাত্র নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কারণে এবং এটি যুদ্ধবিরতির সীমানার মধ্যে কার্যকর। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ধ্বংসের পরিমাণ এবং ধরণ দেখে এটি স্থানীয় জনগণকে লক্ষ্য করে পরিচালিত আক্রমণ বলে মনে হচ্ছে।

এই স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের নজর আরও বাড়িয়েছে। তারা বলছে, নিরীহ মানুষদের বসতি ধ্বংস, শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং নাগরিক জীবনের ওপর বিস্তৃত প্রভাব এই অঞ্চলে মানবিক সংকটকে গভীর করছে।

গাজা উপত্যকায় এ ধরনের ধ্বংস এবং মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ চলমান। তবে পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও এই অঞ্চল থেকে ধ্বংস এবং ক্ষতির খবর আসতে পারে, যা শান্তি প্রক্রিয়া ও নাগরিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত