প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কলম্বিয়ার আমাজন অঞ্চলে মাদক পাচারকারী এক গেরিলা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিমান অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৯ জন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এএফপি বার্তায় জানিয়েছে, অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১০ নভেম্বর ভোরে চালানো বিমান হামলায় নিহতরা ফার্কের (FARC) এক ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীর সদস্য। ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যানের পর এই গোষ্ঠী সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ (ইএমসি) নামে পুনর্গঠন করেছে। ইএমসি-র নেতৃত্বে রয়েছেন ইভান মর্ডিস্কো, যিনি কলম্বিয়ার সবচেয়ে “ওয়ান্টেড” বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত।
প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো বলেছেন, শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার পর তিনি ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে “বোমা হামলা ও সামরিকভাবে নির্মূলের” নির্দেশ দিয়েছেন। সামরিক কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, বিমান হামলাটি ইএমসি-র সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়ায় পরিচালিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফার্কের নিরস্ত্রীকরণের পর ইএমসি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে। তারা মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ খননের মাধ্যমে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা গ্রামীণ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটিয়েছে। সরকারি উপস্থিতি সীমিত এমন এলাকায় ইএমসি প্রায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মতো প্রভাব বিস্তার করছে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো, তার স্ত্রী ভেরোনিকা অ্যালকোসার, ছেলে নিকোলাস এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্ডো বেনেদেত্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অভিযোগ এসেছে যে, তারা মাদক কার্টেলদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করছেন, যদিও সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই।
২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর পেট্রো কোকেন উৎপাদনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের বদলে আলোচনার পথ বেছে নেন। সমালোচকরা বলছেন, এই নীতি গেরিলা ও কার্টেলগুলোকে শক্তিশালী করেছে এবং দেশব্যাপী কোকেন উৎপাদন রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আগামী নির্বাচনে পেট্রোর রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনী সতর্ক করেছে, দেশের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ও শক্তি কমানো হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অভিযানে মানবিক ঝুঁকি এবং শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির সাধারণ জনগণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে।
এদিকে, নিহত গেরিলাদের পরিবারের প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযান চলাকালীন ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পদ ও সরঞ্জাম ধ্বংসের মাধ্যমে আরও বড় ধরনের অভিযান চালানো হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেট্রো বলেন, “আমরা শান্তি চাই, কিন্তু নিরাপত্তা সুরক্ষা করতে হবে। যারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া অপরিহার্য।”