দিল্লি ইসলামাবাদ বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৩ বার
দিল্লি ইসলামাবাদ বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মঙ্গলবার সকালে ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী বিস্ফোরণের পর ভারতের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করেছে দিল্লি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিস্ফোরণের জন্য ভারতকে দায়ী করার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা “ভিত্তিহীন ও কৌশলী দাবি” হিসেবে খারিজ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পাকিস্তানের নেতৃত্ব যে অভিযোগ তুলেছে তা কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, এবং এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।

জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সেনাবাহিনীর সহায়তায় সংবিধানকে অব্যাহতভাবে উল্টানো এবং ক্ষমতা দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা আখ্যান তৈরি করে তারা নিজস্ব রাজনৈতিক দায়কে লুকানোর চেষ্টা করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক মহল বাস্তব পরিস্থিতি ভালোভাবে জানে এবং পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টায় বিভ্রান্ত হবে না।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে ইসলামাবাদের একটি জেলা আদালতের প্রবেশপথের কাছে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণটির প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মঘাতী হামলা। আদালতের এই প্রবেশপথটি সাধারণ মানুষ এবং আদালতের কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের নিয়মিত ব্যবহার করা যায়।

ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভারতকে দায়ী করার কথা বলেন, তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বিস্ফোরণের পেছনে আফগানিস্তানের মদতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামাবাদের এই হামলা দেশটির ভেতরে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি এতই শক্তিশালী ছিল যে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যাচ্ছিল। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের রাস্তা ও এলাকা ঘিরে রেখেছে।

পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করেছে এই ঘটনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের বিস্ফোরণ নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া এবং অভিযোগের ভিত্তিহীনতা প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারের উপর জনমত নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই ধরনের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মনোযোগ নিজের দিকে টানতে চাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সংযোগ বজায় রাখা এবং তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামাবাদে সন্ত্রাস ও আত্মঘাতী হামলার ঘটনা বেড়েছে। এই ঘটনায় নতুন করে নাগরিক নিরাপত্তা, আদালতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনার পর আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে বের হন এবং আহতদের উদ্ধার করতে সাহায্য করেন।

পরিস্থিতি এখনও শান্ত নয়, এবং পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে দায়িত্বশীলদের সামনে আনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ইসলামাবাদে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই বিস্ফোরণ ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা হিসেবে দেখলেও, দিল্লি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, যে ভিত্তিহীন অভিযোগ পাকিস্তান তুলেছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিবেচনা করে খারিজ করবে। আন্তর্জাতিক মনোযোগ এবং পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে বিস্ফোরণের সত্যিকারের কারণ ও দায়ীদের শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত