৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেষ হবে: সাদিক কায়েম

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও উত্তপ্ত ভাষ্য ছুঁড়ে দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মল চত্বরে আয়োজিত ‘রান ফর জুলাই’ কর্মসূচিতে তিনি দাবি করেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে। শেখ হাসিনার ঠিকানা আর বাংলাদেশ থাকবে না, দলটি ও তাদের গুপ্ত দোসরদের নির্মূল করা হবে।”

সাদিক কায়েমের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। একদিকে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে এমন কঠোর মন্তব্য করেছেন, অন্যদিকে ‘রান ফর জুলাই’ আন্দোলনের চেতনাকে সামনে এনে দেশের তরুণ প্রজন্মের ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।

সকাল ৮টার দিকে ‘রান ফর জুলাই’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শত শত শিক্ষার্থী মল চত্বরে জড়ো হন। লাল-সবুজ ব্যানারে লেখা ছিল—“জুলাই সনদের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।” বক্তব্য দিতে গিয়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা জানি, ৫ আগস্ট এই দেশের রাজনীতি নতুন মোড় নেবে। যারা দশকের পর দশক ধরে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে। শেখ হাসিনার ঠিকানা আর বাংলাদেশ হবে না। ইতিহাস তাদের রায় দিতে প্রস্তুত।”

তার এই বক্তব্যে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত জনতার মধ্যে। মঞ্চের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক শিক্ষার্থী ‘জুলাইয়ের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হউ’ স্লোগান দিতে থাকেন। মল চত্বরের চারপাশে নিরাপত্তা টহলও জোরদার করা হয়, তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

কর্মসূচির ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাদিক কায়েম বলেন, “গতরাতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরেছি—মধুর ক্যানটিন থেকে টিএসসি পর্যন্ত, কলাভবন থেকে রোকেয়া হলের সামনে পর্যন্ত—কিন্তু কোথাও আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কাউকে পাইনি। তারা এখন ভয়ে লুকিয়ে আছে, কারণ তারা জানে, জনগণের শক্তি তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “‘রান ফর জুলাই’-এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই সনদের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা। আমরা সবাই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়েছি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভক্তি এসেছে। সেই বিভক্তি কাটিয়ে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। এই ঐক্যই হবে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।”

‘রান ফর জুলাই’ নামের এই কর্মসূচিটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তরুণ সমাজের মধ্যে বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও সংস্কার প্রস্তাবকে নতুনভাবে পুনর্জাগরিত করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচিটির জন্য ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে, বিশেষত তরুণ শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকসুর ভিপির এই বক্তব্য শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিমত নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি ইঙ্গিত বহন করছে। এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “যে ভাষায় সাদিক কায়েম কথা বলছেন, তা কেবল ছাত্রনেতার বক্তব্য নয়, বরং একটি বৃহত্তর আন্দোলনের প্রতীকী ঘোষণা হয়ে উঠছে। ৫ আগস্টকে তিনি যে দিনটি নিয়ে এতটা দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।”

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতারা এই বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী ও বিভাজন সৃষ্টিকারী। একজন ডাকসু নেতা হিসেবে তার উচিত ছিল ঐক্য ও সংলাপের আহ্বান জানানো, সংঘাত নয়।” তিনি আরও বলেন, “যারা এমন ভাষায় রাজনীতি করতে চায়, তারা গণতন্ত্র নয়, বিশৃঙ্খলা চায়।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিপি সাদিক কায়েমের বক্তব্যের অংশবিশেষ ছড়িয়ে পড়েছে মুহূর্তেই। কেউ তাকে ‘তরুণদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ বলছেন, তার বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ রয়েছে। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, টুইটার (এক্স) ও ইউটিউব চ্যানেলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—৫ আগস্টের পর আসলে কী ঘটবে?

একজন তরুণ অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা কোনো দলের হয়ে নয়, বরং জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। জুলাইয়ের আন্দোলন আমাদের শেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি।” অন্যদিকে আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা চাই পরিবর্তন, কিন্তু সেই পরিবর্তন যেন সহিংসতার মাধ্যমে না আসে। আমাদের ভবিষ্যৎ শান্তি ও গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠুক।”

‘রান ফর জুলাই’ কর্মসূচি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিছু সময় ধরে মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বিকেলের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।

তবে রাজনৈতিক মহলে এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া থামেনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আলোচনায় উঠে আসছে, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কী ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন ডাকসুর এই তরুণ নেতা। কেউ কেউ বলছেন, এটি আসন্ন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রাথমিক বার্তা, আবার অনেকে মনে করছেন, এটি কেবলই প্রতীকী ভাষণ যা তরুণদের আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা জাগাতে দেওয়া হয়েছে।

যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, সাদিক কায়েমের এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার এ মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। আগামী দিনগুলোতে তার এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া কতদূর গড়ায়—তা এখন সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত