মাঝরাতে কৃতিকে কেন ফোন করেছিলেন হৃতিক? রহস্য জানালেন অভিনেত্রী নিজেই

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
মাঝরাতে কৃতিকে কেন ফোন করেছিলেন হৃতিক? রহস্য জানালেন অভিনেত্রী নিজেই

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডে তারকারা যেমন গ্ল্যামার ও জনপ্রিয়তায় ঘেরা, তেমনি তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট ঘটনাগুলোও দর্শকদের কাছে হয়ে ওঠে আলোচনার বিষয়। এমনই এক ঘটনা সম্প্রতি জানালেন অভিনেত্রী কৃতি শেনন, যা শুনে ভক্তরা অবাক হয়েছেন। মধ্যরাতে তাকে ফোন করেছিলেন বলিউড সুপারস্টার হৃতিক রোশন! হৃতিক বর্তমানে অভিনেত্রী সাবা আজাদের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন এবং এই সম্পর্ক নিয়ে তারা বরাবরই খোলামেলা। কিন্তু সেই রাতের ফোনকলের পেছনের গল্প শুনে অনেকেই ভাবছেন— কৃতির জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর মুহূর্তগুলোর একটি এটি।

সম্প্রতি কাজল দেবগন ও টুইঙ্কেল খান্নার সঞ্চালনায় নির্মিত জনপ্রিয় সাক্ষাৎকারধর্মী অনুষ্ঠান টু মাচ উইথ কাজল অ্যান্ড টুইঙ্কেল-এ হাজির হয়েছিলেন কৃতি শেনন ও অভিনেতা ভিকি কৌশল। সেখানে নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়েই কৃতি হঠাৎ এই স্মৃতিটা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, “আমি ছোটবেলা থেকেই হৃতিক রোশনের ভীষণ ভক্ত। আমার ঘরের দেয়ালে ওর একটা বড় ছবি টাঙানো ছিল। আমি ওকে দেখে নাচ শিখতাম, অনুকরণ করার চেষ্টা করতাম। তখন ভাবতাম, যদি একদিন ওর সঙ্গে দেখা হয়, সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।”

কৃতির বলিউডে অভিষেক হয়েছিল ২০১৪ সালে ‘হিরোপন্তি’ সিনেমার মাধ্যমে। সেই ছবিতে টাইগার শ্রফের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি নজর কাড়েন। কিন্তু যা ঘটেছিল ছবিটি মুক্তির পর, তা যেন স্বপ্নের চেয়েও বেশি অবিশ্বাস্য। অভিনেত্রী জানান, “আমি জানতামই না যে টাইগার শ্রফ ‘হিরোপন্তি’র একটি বিশেষ প্রদর্শনের আয়োজন করেছিলেন হৃতিক রোশনের জন্য। পরে জানতে পারি, হৃতিক সিনেমাটা দেখেছেন। কিন্তু তখনও কোনো প্রত্যাশা ছিল না। ভাবিনি উনি আমাকে নিয়ে কিছু বলবেন বা জানাবেন।”

এরপরই ঘটে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। কৃতি বলেন, “এক রাতের ঘটনা। সময়টা ছিল রাত দুইটার মতো। আমি তখন ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন এল। এত রাতে কে ফোন দিচ্ছে ভেবে ধরিনি। পরে ট্রু-কলারে নম্বরটা দেখে দেখি— কলটা এসেছে হৃতিক রোশনের কাছ থেকে! আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, নিশ্চয়ই কোনো মজা করা হচ্ছে। কিন্তু পরে বুঝলাম, ওটা সত্যিই হৃতিকের নম্বর। পুরো রাত ঘুমাতে পারিনি। সকালে সাহস করে ওনাকে ফোন করেছিলাম।”

ফোনে কী কথা হয়েছিল, সে বিষয়েও জানান অভিনেত্রী। “সকালে উনি ফোন রিসিভ করলেন, হাসলেন, তারপর বললেন, ‘তুমি দারুণ কাজ করেছো কৃতি, খুবই আত্মবিশ্বাসী লাগছিল তোমাকে পর্দায়।’ আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, হৃতিক রোশন নিজে আমাকে ফোন করে অভিনয়ের প্রশংসা করছেন। এটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক মুহূর্ত।”

অনুষ্ঠানে কৃতির এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত দর্শক ও সহ-অভিনেতা ভিকি কৌশলও বিস্ময় প্রকাশ করেন। ভিকি বলেন, “আমি এখনো হৃতিক রোশনের বিশাল ভক্ত। যখন ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ মুক্তি পেল, তখন আমি ক্লাস টেনে পড়ি। সেই সময় দেশে যত কিশোর ছিল, সবাই হৃতিকের নাচ, শরীর আর চুলের স্টাইল নকল করতে শুরু করেছিল। আমিও ব্যতিক্রম ছিলাম না।”

ভিকি আরও যোগ করেন, “তখন জানতে পারলাম, আমার বাবা হৃতিকের সঙ্গে কাজ করছে। উনি একজন ফাইট ডিরেক্টর, অর্থাৎ সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যের পরিচালক। তখনও আমি খুব লজ্জা পেতাম কিছু বলতে। কিন্তু একমাত্র হৃতিক রোশনকেই আমি বাবাকে বলেছিলাম, ‘বাবা, একবার যদি ওর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে পারো!’”

এই মুহূর্তে হৃতিক রোশন ও কৃতি শেনন দুজনই বলিউডের শীর্ষ জনপ্রিয় তারকা। হৃতিক বর্তমানে প্রেমিকা সাবা আজাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে সময় কাটাচ্ছেন, আর কৃতি নিজের অভিনয় ও প্রযোজনার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তবে কৃতির সেই পুরোনো ঘটনার স্মৃতিচারণে এখনো যেন ঝলমল করে ওঠে ভক্তের চোখের বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার আলো।

বলিউডে তারকাদের মধ্যকার সম্পর্ক, অনুপ্রেরণা আর বন্ধুত্বের এই গল্প একদিকে যেমন মানবিক, তেমনি অন্যদিকে তা প্রতিফলিত করে সিনেমা জগতের আন্তরিক বন্ধন। একসময় যিনি ছিলেন পোস্টারের মানুষ, তিনিই একদিন ফোন করে স্বপ্নপূরণের প্রশংসা জানালেন— এমন অভিজ্ঞতা কোনো তরুণ শিল্পীর জীবনে এক অমূল্য প্রাপ্তি।

কৃতির কথায়, “আমি তখন খুব নতুন, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি হচ্ছিল ধীরে ধীরে। কিন্তু হৃতিক রোশন ফোন করে যে প্রশংসা করেছিলেন, সেটা আমার আত্মবিশ্বাস অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই দিন থেকে আমি বিশ্বাস করতে শুরু করি, পরিশ্রম করলে স্বপ্ন সত্যি হয়।”

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কাজল দেবগন তখন রসিকতার ছলে বলেন, “তাহলে হৃতিকের ফোনই তোমার লাকি চার্ম ছিল!” কৃতি হেসে উত্তর দেন, “সম্ভবত! কারণ তার পর থেকেই আমার জীবনে ধীরে ধীরে সবকিছু বদলে যায়।”

হৃতিক রোশন ও কৃতি শেনন দুজনেরই চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয়েছিল ভিন্ন প্রজন্মে, কিন্তু তাদের মধ্যে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণা আছে, তা স্পষ্ট এই ঘটনাতেই। বলিউডের এই ‘মধ্যরাতের ফোনকল’ হয়তো শুধু এক মুহূর্তের যোগাযোগ ছিল, কিন্তু তা এক তরুণ অভিনেত্রীর মনে গেঁথে গেছে এক আজীবনের অনুপ্রেরণা হিসেবে।

ভক্তদের মতে, এই গল্প প্রমাণ করে দেয়— বাস্তব জীবনে নায়করা শুধু পর্দার নয়, অনেক সময় প্রেরণার প্রতীকও হয়ে ওঠেন। আর হৃতিক রোশন, যিনি একসময় কোটি তরুণীর হৃদয়ের স্পন্দন ছিলেন, তিনি হয়তো সেদিন এক তরুণ অভিনেত্রীর স্বপ্নের দুনিয়াকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিলেন একটি ফোনকলের মাধ্যমে।

বলিউডের উজ্জ্বল আলোয়, প্রতিযোগিতা আর পরিশ্রমের এই জগতে, এমন আন্তরিক মুহূর্তগুলোই মনে করিয়ে দেয় যে, তারকারাও মানুষ— যারা অন্যের পরিশ্রমকে সম্মান করতে জানেন। কৃতি শেননের ভাষায়, “হৃতিক রোশন শুধু একজন তারকা নন, তিনি একজন উদার হৃদয়ের মানুষ, যিনি জানেন কীভাবে নতুনদের স্বপ্নে আগুন জ্বালাতে হয়।”

এই একটি ছোট্ট ফোনকল হয়তো ইতিহাসে লেখা থাকবে না, কিন্তু বলিউডের হৃদয়ে এটি থেকে যাবে এক মিষ্টি, মানবিক গল্প হিসেবে— যেখানে এক ভক্তের স্বপ্ন একদিন স্পর্শ করেছিল তার নায়কের কণ্ঠস্বর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত