প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের স্বর্ণবাজারে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আজ দেশের বাজারে স্বর্ণ ভরিতে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকায় বিক্রি হবে। এটি মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঘোষিত মূল্যের তুলনায় ৪ হাজার ১৮৮ টাকা বেশি। নতুন মূল্যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দর বিবেচনা করে সমন্বয় আনা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৬৩ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৮ টাকায়। তবে এই দামের সঙ্গে সরকারি ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে ১০ নভেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫০৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা হয়েছিল। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকায়। এই দাম কার্যকর হয়েছিল ১১ নভেম্বর থেকে।
চলতি বছর স্বর্ণের দাম দেশে মোট ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। তার মধ্যে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ৫২ বার এবং দাম কমানো হয়েছে মাত্র ২৩ বার। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে স্বর্ণের দাম ৬২ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ বার বৃদ্ধি এবং ২৭ বার হ্রাস করা হয়েছিল। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, স্বর্ণের দামের ওঠানামা প্রতি বছরই বাজারে নিয়মিত ঘটে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করে।
স্বর্ণের পাশাপাশি দেশে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বর্তমানে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৩ হাজার ৪৭৬ টাকায়, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের দাম বাজারের সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারের মূলধন মূল্য এবং স্থানীয় মুদ্রার মান অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়। বাজুসের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দর সমন্বয় নীতি ক্রেতা এবং জুয়েলারিদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে রমজান, বিবাহ মৌসুম এবং অন্যান্য উৎসবকালীন সময়ে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার কারণে এমন নিয়মিত দর সমন্বয় বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হয়।
ক্রেতাদের জন্য সুসংবাদ হলো, চলতি বছরে স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির হার আগে বছরের তুলনায় সামান্য বেশি হলেও বাজারে রূপার দাম অপরিবর্তিত থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখনও বৈচিত্র্যপূর্ণ সমন্বয় করতে সক্ষম। এ ধরনের বাজার পরিস্থিতি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ ও রুপা উভয়ের ক্ষেত্রে সুবিধা তৈরি করে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, আজ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজার এবং স্থানীয় সরবরাহের ভিত্তিতে সমন্বয় আনা হয়েছে। স্বর্ণ ও রুপার ক্রেতারা বাজুসের নিয়মিত দর পরিবর্তনের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, এবং উৎসব বা বিনিয়োগের সময় সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা পাবেন।










