মিস ইউনিভার্স’-এর সেরা তিনে বাংলাদেশের মিথিলা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
মিস ইউনিভার্স’-এর সেরা তিনে বাংলাদেশের মিথিলা

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসরের গ্র্যান্ড ফিনালের দিকে ধাপ বাড়াচ্ছে। আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহর পাক ক্রেটে অনুষ্ঠিত হবে এই আসরের প্রতিযোগিতা, যেখানে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। দেশের পতাকা তুলে ধরতে এবার মিথিলা একের পর এক ইভেন্টে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের পরিচয় রেখেছেন এবং ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতার ভোটিংয়ে সেরা তিনে স্থান করে নিয়েছেন।

এবারের আসরে বিশ্বের ১২১টি দেশের প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগীরা নানামুখী ইভেন্টে অংশ নিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছেন। এসব ইভেন্টে মিথিলা শুধু পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নয়, বরং ‘পিপলস চয়েস’ বিভাগেও অসাধারণ ভোট সংগ্রহ করেছেন। বুধবার রাত পর্যন্ত পিপলস চয়েসে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে মিথিলার নাম উঠে আসে তৃতীয় স্থানে। এছাড়া ‘বেস্ট ন্যাশনাল কস্টিউম’, ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’, ‘বেস্ট ইভিনিং গাউন’ ও ‘বেস্ট স্কিন’ বিভাগেও বাংলাদেশের মিথিলা শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন। প্রতিযোগিতার মূল বিচারকরা এবং অনলাইন ভোট—দুটোই মিলে নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত বিজয়ীকে, আর এই মুহূর্তে মিথিলার অবস্থান দেশের মানুষের জন্য উজ্জ্বল আশা জাগাচ্ছে।

মিথিলা ফুকেটের ইভেন্ট শেষে পাঠায় অবস্থানকালে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “মঙ্গলবার রাতে আমাকে জানানো হয়েছিল যে আমি ভোটে তৃতীয় স্থানে আছি। প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সারা শরীর কাঁপছিল, একদম বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কান্না চলে আসে। দেশের মানুষ ও সহকর্মীদের সমর্থন সত্যিই আমাকে অভিভূত করেছে। আমি ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত। দেশের মানুষের এই ভালোবাসা এবং উৎসাহ আমাকে আরও শক্তি দিচ্ছে।”

মিথিলা আরও বলেন, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বিচারকের রায় নয়, অনলাইন ভোটও গুরুত্বপূর্ণ। থাইল্যান্ডে আসার পর বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনি প্রতিটি পারফরম্যান্সে নিজেকে যাচাই করেছেন এবং সবকিছু মিলিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, আগামী ইভেন্টগুলোতেও তিনি ভালো ফলাফল করতে পারবেন। তিনি জানান, “শুধু মঙ্গলবারেই ৬০ হাজারের বেশি ভোট পড়েছে। দেশের মানুষের সমর্থন পেলে আমি আমার পারফরম্যান্স আরও সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারব। এটা বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের গর্বের মুহূর্ত।”

মিথিলার এই অর্জন বাংলাদেশের মিস ইউনিভার্স ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে শিরীন শিলা এবং ২০২৪ সালে আনিকা আলম মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তবে এবার মিথিলার এই সাফল্য দেশের জন্য আরও স্বতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বীকৃতি বাড়াবে।

মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ সংগঠনও তাদের ফেসবুক পেজে বুধবার রাতের একটি পোস্টে দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছে, “দ্বিতীয় অবস্থানে যেতে আমাদের আরও প্রায় ২৫ হাজার ভোট দরকার। ইনশাআল্লাহ আজ রাতেই হবে! বাংলাদেশ অদম্য, বাংলাদেশের জন্য ভোট দিন।” এই পোস্টে বোঝানো হয়েছে, দেশের মানুষ যদি আরও সক্রিয়ভাবে ভোটে অংশ নেন, তবে মিথিলা সহজেই চূড়ান্ত ফাইনাল পর্যায়ে সেরা তিনে স্থান পেতে পারেন।

তানজিয়া জামান মিথিলা ২ নভেম্বর থাইল্যান্ডে পৌঁছান। দেশের পতাকা নিয়ে মুকুট জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি প্রতিটি ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন। দেশীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই সফর নিয়ে আলোচনা ও সমর্থন ভীষণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মিথিলার প্রস্তুতি, মনোবল এবং পারফরম্যান্স সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গর্বের সাথে তুলে ধরেছে।

মিথিলার এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের মডেলিং ও বিনোদন শিল্পের জন্যও একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম এই ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। বিশেষ করে মিথিলার সাফল্য প্রমাণ করছে, সামর্থ্য, পরিশ্রম এবং দেশের মানুষের সমর্থনের সমন্বয়ে যে কোনো বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সফল হতে পারে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের এই গৌরবময় অংশগ্রহণ দেশের সুনাম বৃদ্ধিতে সহায়ক। মিথিলার অর্জন দেশের মডেল ও বিনোদন জগতের জন্য নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি ইভেন্টে তার পারফরম্যান্স এবং ভোট সংগ্রহ দেশের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। ভক্ত এবং সমর্থকদের উৎসাহ ও ভোটেই নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত ফলাফল, যা বাংলাদেশকে আরও উচ্চ স্থানে দেখতে সক্ষম করবে।

এই প্রতিযোগিতা দেশের মডেলিং ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করছে। মিথিলার সাহসী পদক্ষেপ, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং দেশের মানুষের সমর্থন মিলিয়ে তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মও এই ধরনের অর্জনের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের মডেলিং ও বিনোদন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।

মিথিলার এই সাফল্য শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার নয়, দেশের জন্য গৌরবের এক নিদর্শন। বাংলাদেশের পতাকা, সংস্কৃতি ও মনোভাব আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে মিথিলার চেষ্টা দেশবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। এই সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশের তরুণী প্রতিভা যে কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রতিপন্ন করতে সক্ষম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত