আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য দমন করবে ছাত্র-জনতা: ড. হেলাল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৩ বার
আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য দমন করবে ছাত্র-জনতা: ড. হেলাল

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, “আওয়ামী লীগকে আর কোনো ছাড় নেই। যেখানেই তাদের নৈরাজ্য ঘটবে, সেখানেই ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কেউ যদি দেশের জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের চেষ্টা করে, তাকে গণধোলাই দিয়ে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে হবে।”

ড. হেলাল উদ্দিনের এই মন্তব্য আসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ের আগুন-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও এবং নৈরাজ্যের ঘটনা প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট জনগণ উদারতার পরিচয় দিয়েছে, আওয়ামী লীগকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এবার আর কোনো উদারতা দেখানো যাবে না। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা যেখানেই আগুন-সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের চেষ্টা করবে, তাদেরকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। আওয়ামী লীগ জাতির শত্রু এবং ভারতীয় আধিপাত্যবাদের দালাল।”

তিনি এই মন্তব্যগুলো করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টন-গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে। সমাবেশে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও আগুন-সন্ত্রাসের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান। এছাড়া মহানগরীর সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও পল্টন থানা আমির শাহীন আহমেদ খান, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, শাহবাগ পূর্ব থানা আমির আহসান হাবীব, মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমির মুহাম্মদ মোতাছিম বিল্লাহসহ মহানগরীর সব সাংগঠনিক থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “জনগণ যখন সযত্নে নিজেদের অধিকার, সম্পদ এবং নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় নেমে আসে, তখন সেটি গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচায়ক। ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে আমরা এই নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ করব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “রাজপথে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও প্রতিবাদ আমাদের মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। আমরা নিশ্চিত করব যে দেশের জনগণ নিরাপদভাবে তাদের কণ্ঠস্বর প্রকাশ করতে পারে।”

এই বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা ধানমন্ডি-৩২, সাইন্সল্যাব, শাহবাগ, বাহাদুর শাহ পার্ক, যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তান এলাকায় বিভিন্ন স্পটে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। স্থানীয় জনসাধারণও এতে অংশগ্রহণ করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত আগুন-সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারের নজর আনা।

ড. হেলাল উদ্দিনের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে যে, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, “যে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, আগুন-সন্ত্রাস এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করার চেষ্টা দেশের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের এই মুহূর্তে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের আহ্বান এবং জনগণের সংহতি দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এই ধরনের মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে প্রতিফলিত করে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের শিক্ষার্থী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিক সবাইকে এই ধরনের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জাগ্রত হতে হবে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জনগণ একত্রে থেকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করলে সামাজিক ন্যায়, নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সম্ভব হবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের জামায়াতে ইসলামী এই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজন করছে, যাতে নাগরিকরা সন্ত্রাস, আগুন-সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সচেতন হতে পারে। ড. হেলাল উদ্দিন এই ধরনের আন্দোলনকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি শক্তিশালী অংশ হিসেবে দেখেন এবং জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

শেষ পর্যন্ত, এই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ প্রমাণ করেছে যে, দেশের জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংহতি ও সচেতনভাবে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ জনগণের একত্রিত প্রয়াস দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত