প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ বুধবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জাতীয়তাবাদী শক্তির পেছনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের মধ্যে যারা ভালো মানুষ, যারা দেশকে ভালোবাসেন, যারা মনে করেন দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রয়োজন এবং গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত থাকা উচিত, তাদের আমি আহ্বান জানাই আগামী নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী শক্তির পাশে দাঁড়ানোর জন্য।”
হারুনুর রশিদ আরও বলেন, “বিগত সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন না, তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। যারা এই ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের বিচার হওয়া উচিত। আমরা কোনো প্রতিশোধমূলক মনোভাব নিয়ে নেই। আমাদের লক্ষ্য একমাত্র দেশের মানুষ ও সংবিধান রক্ষা করা।”
তিনি বলেন, “১৫ বছর ধরে আমাদের ওপর যে অন্যায় ও জুলুম হয়েছে, তার প্রতিশোধ আমরা নেইনি। আমরা কখনো প্রতিহিংসার বশবর্তী হইনি। তবে যারা সরকারি সম্পত্তি লুটপাট করেছে, ভোট চুরি করেছে, তাদের বিচার হওয়া অপরিহার্য। শেখ হাসিনার সময়কালে ঘটে যাওয়া ভুল ও অন্যায় কার্যক্রমের জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”
সমাবেশে হারুনুর রশিদ ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ও পদ্মা নদীর ন্যায্য পানিবণ্টনের দাবিতেও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দেশের জল সম্পদ ও নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনগণের সচেতনতা জরুরি। পানি ভাগাভাগি ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, সাবেক এমপি মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আশাদুল্লাহ আহমদ, তসিকুল ইসলাম, আলিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ মাসুম এবং বাংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই বক্তব্যে জাতীয়তাবাদ, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং সরকারের ভুল নীতি মোকাবেলার জন্য জনগণকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, দেশের জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ চাইছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে পার্থক্য ভুলে একত্রিত হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তারা বিশেষভাবে যুবসমাজকে সতর্ক থাকতে এবং ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সমাবেশে প্রতিটি বক্তব্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশপ্রেম ও নৈতিকতার দিক থেকে দায়িত্বশীল হওয়া এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথেই জড়িত হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করার গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জনগণকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করার সুযোগ তৈরি করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
গণসমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত জনতা স্থানীয় এবং জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে সমালোচনা করেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। সমাবেশ শেষে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, এই ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চলবে, যাতে জনগণ রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে সচেতন থাকে এবং দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।