চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের ইতি ঘটবে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৮ বার
চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের ইতি ঘটবে

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায়ের তারিখ ঘোষণার পর মামলার প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ে আসতে প্রসিকিউশনের যেসব সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি ভুক্তভোগী ও গোটা জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চিফ প্রসিকিউটর আশা প্রকাশ করেন, ১৭ নভেম্বর রায়ে আদালত ‘সুবিবেচনা ও প্রজ্ঞা প্রয়োগ করবেন এবং জাতির বিচারের আকাঙ্ক্ষা ও তৃষ্ণার প্রতি সুবিচার করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি ইতি ঘটানো সম্ভব হবে। এই রায় ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যাতে দেশের বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

মামলার ইতিহাস অনুযায়ী, ১২ মে প্রসিকিউশন তদন্ত সংস্থা এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

মামলার প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্য উদ্ঘাটনে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করার পর তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া, এই মামলায় ৫৪ জন সাক্ষী দিয়েছেন, যার মধ্যে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরও রয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আরও জানান, মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়, ষড়যন্ত্র, উসকানি, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রায়ে দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এক সুস্পষ্ট বার্তা পাঠানো হবে যে, মানবতাবিরোধী অপরাধ অপরাধ হিসেবে গণ্য এবং এর দায়শাস্তি এড়ানো যাবে না।

মামলার দীর্ঘ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দেশের বিচারব্যবস্থা, তদন্ত সংস্থা এবং প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যে প্রমাণাদি ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলায় প্রদত্ত সাক্ষ্য এবং প্রমাণাদি ভবিষ্যতে দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে থাকবে।

লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন তো?

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই রায় শুধুমাত্র বিচার প্রক্রিয়ার ইতি ঘটানোর জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ যাতে ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।”

প্রসিকিউশনের পক্ষের অন্যান্য সদস্যরা—মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম এবং ফারুক আহাম্মদও মামলার চূড়ান্ত পর্যায় এলে জনগণ ও জাতির উদ্দেশ্যে আদালতের রায়ের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ১৭ নভেম্বরের রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ক্ষমতা ও স্বচ্ছতা প্রদর্শন করবে।

এই মামলার রায় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে লেখা হবে। দেশজুড়ে মানুষ সঠিক, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী রায়ের প্রত্যাশায় রয়েছে। মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া, তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং প্রসিকিউশনের অক্লান্ত প্রচেষ্টা মিলিয়ে দেশের আইন শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ তৈরি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত