প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বললেন, “লকডাউনের নামে আওয়ামী লীগ অবৈধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও বিচার প্রতিহত করতে মানুষকে পুড়িয়ে মারার কার্যক্রম চালাচ্ছে।” তার কথায়, এই ধরনের সহিংসতার সংস্কৃতি আবারও প্রমাণিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।
রিজভী আরও বলেন, “দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের বিভ্রান্তিমূলক পদক্ষেপ ও নানা কর্মসূচি গণতন্ত্রের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা ৫ আগস্টের পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির মতোই আজও তাদের শাসন ও দমন নীতি বজায় রাখতে চাইছে।”
তিনি জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউনের নামে অগ্নিসংযোগ, পথ অবরোধ ও সাময়িক চলাচল ব্যাহত করার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে, যা দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও মন্তব্য করেন যে, “একটি রাষ্ট্রে জনগণের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, সরকারের রাজনৈতিক দলই মানুষের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। লকডাউনের আড়ালে সাধারণ নাগরিকরা শুধু অস্বস্তি নয়, ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। মানুষকে পুড়িয়ে মারার এই চক্রান্ত সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রকে অবমূল্যায়ন করা।”
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সক্রিয়। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং জীবন-মাল রক্ষার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের উপর রয়েছে। কিন্তু যারা ক্ষমতার লোভে মানুষকে পুড়িয়ে মারছে, তারা জাতির স্বার্থের সঙ্গে বাণিজ্য করছে।
তিনি সরকারের নীতিমালা এবং লকডাউন বাস্তবায়নের কৌশল সমালোচনা করে বলেন, “লকডাউনকে শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থগিত করা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভয় সৃষ্টি করা—এগুলি রাজনৈতিক দমননীতির একটি অংশ।”
রিজভী আরও সতর্ক করেছেন, “যদি গণতন্ত্রের ওপর নিরবিচ্ছিন্ন হুমকি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের জীবন ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সমাজে উত্তেজনা ও সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই আমরা জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি এবং সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা চাই জনগণ যেন তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং রাজনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। লকডাউনের নামে যে সহিংসতা চালানো হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের শত্রু এবং দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। আমরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।”
রিজভীর এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, বরং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও নিরাপত্তার গুরুত্বকেও সামনে তুলে ধরেছে। তার বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, লকডাউনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে।
বিএনপির এই অবস্থান প্রকাশের মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তাপ, ক্ষমতার প্রয়োগ ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার ইস্যুতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে যাতে তারা ন্যায্য ও নিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করে, যাতে সাধারণ মানুষ কোন প্রকার হুমকি বা সহিংসতার মুখোমুখি না হয়।
রিজভী আশ্বস্ত করেছেন যে, বিএনপি দেশের নাগরিকদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক কার্যক্রমে তৎপর থাকবে। তিনি আবারও জোর দিয়েছেন, “জনগণের অধিকার রক্ষা ও দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা আমাদের অঙ্গীকার। লকডাউনের আড়ালে কোন প্রকার সহিংসতা ও অপতৎপরতা বরদাস্ত করা হবে না।”
সংক্ষেপে বলা যায়, রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পৃক্ত লকডাউন, সহিংসতা ও নির্বাচনী প্রত্যাশার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে। তার ভাষণ বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের কর্মকাণ্ডে সতর্কতা ও নৈতিকতার আহ্বান হিসেবে ধরা যাচ্ছে, যা মানুষের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।