জাল কাগজে শতকোটি টাকার অর্পিত সম্পত্তি দখলে আদালতের ছয় মাসের স্থগিতাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
জাল কাগজে শতকোটি টাকার অর্পিত সম্পত্তি দখলের অভিযোগে স্থগিতাদেশ

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে শতকোটি টাকার অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে আলবার্ট সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত ছয় মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। বৃহস্পতিবার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা আলবার্ট সরকার প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে শতকোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ শতক অর্পিত সম্পত্তির দখল নেন। তিনি উত্তরাধিকার সনদ, মৃত্যু সনদ ও কবর সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে আদালতে জমা দেন এবং আদালতকে প্রতারণার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করেন। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালী থানাধীন ওই মূল্যবান সম্পত্তি তিনি আত্মসাৎ করেন।

দুদকের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চেয়ে প্রতিবেদন দুদক প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই আলবার্ট সরকার সম্পত্তিটি বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় দুদক আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞা চায়, যা আদালত মঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আলবার্ট সরকারের নামে থাকা ওই সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা হস্তগত করা যাবে না। এছাড়া, দরখাস্তে উল্লিখিত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্রও একই মেয়াদের জন্য ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, “আলবার্ট সরকার জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন—এমন অভিযোগে আমরা অনুসন্ধান চালাই এবং প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা পাই। মামলা রুজুর অনুমোদনের প্রক্রিয়া বর্তমানে দুদক প্রধান কার্যালয়ে চলছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।”

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, আদালতের আদেশের অনুলিপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, যাতে কেউ ওই সম্পত্তি নিয়ে আর কোনো লেনদেন করতে না পারে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ মার্চ, যখন নগরের সদরঘাট রোডে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি ভবনের ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করে সম্পত্তিটি আলবার্ট সরকারের কাছে হস্তান্তর করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। আলবার্ট সরকার দাবি করেন, তিনি সম্পত্তিটির প্রকৃত মালিক ডেভিড ইজিক্যালের নাতি।

তদন্তে জানা যায়, ডেভিড ইজিক্যাল ছিলেন চট্টগ্রামের একজন ইহুদি ব্যবসায়ী, যিনি ১৯৩৬ সালের দিকে পরিবারকে রেখে কলকাতা হয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন। তবে এর পর থেকে তাঁর উত্তরাধিকারী বা পরিবারের কেউ সম্পত্তির বিষয়ে দাবি জানাননি।

দুদকের অনুসন্ধান দল মনে করছে, এই ঐতিহাসিক অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা দাবিতে আলবার্ট সরকার প্রতারণা করেছেন। জাল সনদপত্র ব্যবহার করে তিনি আদালতের চোখে ধুলো দিয়ে সরকারি সম্পদ বেহাতের পরিকল্পনা করেন।

আইনজীবীরা বলছেন, অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলাগুলো সাধারণত সংবেদনশীল এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জটিল। ফলে আদালতের এই স্থগিতাদেশ ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উক্ত সম্পত্তি আপাতত রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং কোনো ধরনের বেচাকেনা, লিজ বা হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

দুদক কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, মামলা অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলে আলবার্ট সরকারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের পুরান এলাকার এই অর্পিত সম্পত্তি বর্তমানে শহরের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত, যার বাজারমূল্য শতকোটি টাকারও বেশি। আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত সম্পত্তিটি বিক্রি বা বেহাতের আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত