প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) জামাল আল নাসেরও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, সাবেক মেয়রকে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এই অভিযান নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি উপলক্ষে তাকে নজরে রেখে পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, গ্রেফতারের পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছোট ভাই। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
পুলিশ জানায়, টোটন বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি। এছাড়া চুয়াডাঙ্গার মোট চারটি মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে রয়েছে। তিনি গ্রেফতারের আগে স্থানীয় রাজনীতিতে এবং পৌরসভা প্রশাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টোটনের গ্রেফতারের লক্ষ্য নাশকতার চেষ্টা প্রতিরোধ করা এবং সম্প্রতি এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার আগে পুলিশ নজরদারির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, চুয়াডাঙ্গার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করায় স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, গ্রেফতারের লক্ষ্য শুধুমাত্র নাশকতা প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
টোটনের গ্রেফতার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে এই ঘটনার মাধ্যমে প্রশাসনের সতর্কতা এবং নাশকতা প্রতিরোধের সক্ষমতা বেড়েছে বলে মন্তব্য করছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রেফতারের পর পুলিশ টোটনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে। নিরাপত্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের স্বার্থে তার স্থায়ী অবস্থান বা কারাগারে স্থানান্তরসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।