উখিয়ার খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নারীর লাশ উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
উখিয়ার খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নারীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের তচ্ছাখালী ব্রিজের পশ্চিম পাশে একটি খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পথচারীরা দুর্গন্ধ পেয়ে খালে ভাসমান একটি বস্তার ভিতরে লাশ দেখতে পান এবং খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। রাত ৯টার দিকে স্থানীয় সূত্রের তথ্য যাচাই করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। নিহতের নাম রহিমা আক্তার, বয়স ৩০। তিনি জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আমির হোসেনের মেয়ে এবং হলদিয়াপালংয়ের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।

পরিবার জানায়, ৬ নভেম্বর রহিমার স্বামী জসিম উদ্দিন তাকে ঘোরার কথা বলে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে রহিমা নিখোঁজ ছিলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে বৃহস্পতিবার খালে তার লাশ পাওয়া গেলেও স্বামী জসিম উদ্দিন এখনো নিখোঁজ। স্থানীয়দের ও পরিবারের দাবী, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী রহিমাকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে পলাতক হয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মনজুর আলম বলেছেন, “নরপশু স্বামী খুবই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।” তিনি আরও বলেন, এমন হত্যাকাণ্ডে সমাজের সচেতন অংশের দায়িত্বও রয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডটির পেছনে পারিবারিক কারণ থাকতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, নিহতের স্বামীকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশের একটি দল কাজ করছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রহিমা একজন শান্তিপ্রিয় ও দায়িত্বশীল নারী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার স্বামী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে তাদের দাম্পত্য জীবনে সময়কাল ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। তবে স্থানীয়রা বলছেন, কোনো পরিবারিক সমস্যাই নারী হত্যা করার মতো নৃশংসতার অনুমতি দেয় না। সমাজে এ ধরনের ঘটনা ন্যায্য বিচার ও সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব প্রতিফলিত করে।

মৃত্যুর খবর পেয়ে রহিমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন গভীর শোকে ভুগছেন। এলাকায় তাদের বাড়ি ও আশপাশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার দাবি করেছেন, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে হত্যাকারীকে শনাক্ত ও শাস্তি দিতে হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও প্রান্তিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং স্বামী জসিম উদ্দিনকে খুঁজে বের করতে তৎপর। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনগত ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেবল এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি পারিবারিক সহিংসতা ও দাম্পত্য কলহের বিপজ্জনক ফলাফল হিসেবে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজের সক্রিয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনায় দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, উখিয়ার হলদিয়াপালংয়ে রহিমা আক্তারের হত্যাকাণ্ড সামাজিক, মানবিক ও আইনগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে, পারিবারিক কলহ বা ব্যক্তিগত বিরোধের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হলে তার প্রভাব কেবল পরিবারেই নয়, পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত