কেনিয়ায় বিক্ষোভে উত্তাল ‘সাবা সাবা’, পুলিশের গুলিতে নিহত ১১ — উত্তেজনা ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার
কেনিয়ায় বিক্ষোভে উত্তাল ‘সাবা সাবা’, পুলিশের গুলিতে নিহত ১১ — উত্তেজনা ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আবারও রক্তাক্ত হলো কেনিয়ার রাস্তাঘাট। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দেশটির রাজধানী নাইরোবি ও আশপাশের শহরগুলো। ট্যাক্স বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া তরুণদের আন্দোলন ক্রমেই রূপ নিচ্ছে এক বৃহৎ গণআন্দোলনে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ যেমন দানা বেঁধেছে, তেমনি পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নও পরিস্থিতিকে করে তুলছে আরও উত্তপ্ত। সর্বশেষ এই সহিংস বিক্ষোভে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কেনিয়ার পুলিশ প্রশাসন। তবে কার গুলিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য মেলেনি কর্তৃপক্ষের তরফে।

৭ জুলাই, দেশটির ‘সাবা সাবা’ আন্দোলনের বার্ষিকীতে হাজারো মানুষ পথে নেমে আসে। গণতন্ত্রের দাবিতে ১৯৯০ সালের এই দিনে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মরণে প্রতিবছর এই দিনটিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবারের পরিস্থিতি ছিল পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়েও ভিন্ন ও সহিংস। রাজনৈতিক দুর্নীতি, পুলিশি নিপীড়ন, নাগরিক অধিকার হরণ, তরুণ সমাজের বেকারত্ব এবং সাম্প্রতিক ব্লগার আলবার্ট ওজওয়াংয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে জনগণের ক্ষোভ বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজধানী নাইরোবির কাংগেমি এলাকায় রয়টার্সের সাংবাদিক প্রত্যক্ষ করেন, কীভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর পড়ে থাকতে দেখা যায়। কাংগেমির ইগল নার্সিং হোম সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ছয়জন আহত অবস্থায় ভর্তি হন, যাদের মধ্যে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। কেনিয়াট্টা ন্যাশনাল হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২৪ জন আহত ব্যক্তি।

এই সহিংসতা এবং পুলিশি দমন-পীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে কেনিয়া ন্যাশনাল কমিশন অন হিউম্যান রাইটস (KNCHR) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এমন এক চিত্র, যেখানে বহু পুলিশ সদস্য পোশাকহীন অবস্থায়, চিহ্নবিহীন গাড়িতে করে শহরের রাস্তায় ঘোরাফেরা করেছেন। এমনকি কিছু এলাকায় পুলিশ ও সশস্ত্র গ্যাং যৌথভাবে বিক্ষোভকারীদের ওপর চাবুক ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকমেন আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করে জানান, সরকার শান্তিপূর্ণ মিছিলের সুযোগ নিয়ে যারা নৈরাজ্য চালাতে চায়, তাদের কঠোরভাবে দমন করবে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাদের শান্তিপূর্ণ দাবি দমনের নামে রাষ্ট্রীয় বাহিনী নিরীহ নাগরিকদের ওপর গুলি চালাচ্ছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানী নাইরোবিসহ বেশ কয়েকটি শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শহরের প্রধান প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, যান চলাচল সীমিত করা হয় এবং অনেক স্কুল ও শপিং মল বন্ধ রাখা হয়। তবুও পায়ে হেঁটে হাজারো বিক্ষোভকারী শহরে প্রবেশ করেন এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।

অন্যদিকে ব্লগার ও শিক্ষক আলবার্ট ওজওয়াংয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি এই আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা হয়ে উঠেছে। পুলিশের হেফাজতে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশে নতুনভাবে আন্দোলনের ঢেউ ওঠে। এই মৃত্যুর ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

সাম্প্রতিক এই রক্তাক্ত সহিংসতার ফলে কেনিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মুখোমুখি। দেশটির জনগণ তাদের অধিকারের জন্য জীবনপণ আন্দোলনে নামছে, আর রাষ্ট্রapparatus সেই কণ্ঠ রোধ করতে দমননীতির আশ্রয় নিচ্ছে—যার ফলে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত কেনিয়ার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা। না হলে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের এক দুঃসহ পরিস্থিতির দিকে দেশটি আরও এগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত