কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বৃহস্পতিবার রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও ২৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী এবং দুই জন শিশু রয়েছেন। ইউক্রেনের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগেছে এবং ৩০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর দিয়েছে রয়টার্স।

ক্লিটসকো জানান, হামলার সময় ভোররাত থেকে কিয়েভের প্রায় প্রতিটি জেলায় ব্যাপক আঘাত হয়েছে। আগুন লাগার কারণে কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে আগুন লেগেছে। এছাড়া ডিনিপ্রো, পোডিলস্কি, ডেসনিয়ানস্কি এবং সোলোমিয়ানস্কি জেলায়ও আবাসিক ভবনগুলোতে আগুন লেগেছে বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হামলার পর জরুরি বিদ্যুৎ বিভ্রাট পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবে ডেসনিয়ানস্কি এবং পোডিলস্কি জেলায় তাপ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টাইমুর তাকাচেঙ্কো সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, রাশিয়ার হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের আবাসিক ভবনগুলো।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে রাশিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষ করে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এবং আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। এই হামলা কেবল শহরের অবকাঠামো নয়, সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

রাশিয়ার সরকারি খবর অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়ান বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ২১৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত বা আটক করেছে। এর মধ্যে ৬৬টি ড্রোন রাশিয়ার দক্ষিণ ক্রাসনোদার অঞ্চলে ভূপাতিত হয়েছে। তবে হামলার প্রভাবে কিয়েভের নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

এই হামলা কেবল সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, মানবিক দিক থেকেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আহতদের মধ্যে শিশু ও গর্ভবতী নারী থাকার কারণে ঘটনাটি আরও গভীর মানবিক প্রভাব তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা হামলার পর জরুরি সেবা প্রদান করেছেন। তবে শহরের আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু মানুষ এখন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এই ধরনের হামলা কিয়েভের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে স্থায়ী প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহে বিঘ্নের ফলে শীতকালে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ক্লিটসকো সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, দ্রুত পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হামলার শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোটকথা, কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শহরের মানুষ, অবকাঠামো এবং মানবিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি গুরুতর সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা ও সহায়তা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ এবং শহরের পুনর্গঠন দ্রুত সম্ভব হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত