প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে পরপর দুই সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো থানায় জিডি হয়েছে। এবার প্রাণনাশের হুমকি, গালিগালাজ এবং প্রতিশ্রুত শাড়ি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে তিশার বিরুদ্ধে জিডি করেছেন নারী উদ্যোক্তা, ফ্যাশন ডিজাইনার এবং সায়ানা কুটর ফ্যাশন হাউজের কর্ণধার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী।
ঘটনা শুরু হয় একটি শাড়িকে কেন্দ্র করে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর অভিনেত্রী তিশা আয়েশাহর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকার একটি শাড়ি ধার নেন একটি বিশেষ টেলিভিশন অনুষ্ঠানে পরার জন্য। চুক্তি ছিল, পরদিন শাড়িটি অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেবেন তিনি। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে শাড়িটি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান তিশা। শুধু তাই নয়, দাবি করা হয়েছে—ফোনে ও বার্তায় তানজিন তিশা উদ্যোক্তা আয়েশাহকে অশোভন ভাষায় গালিগালাজ করেন, মামলা করার ভয় দেখান এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
১২ নভেম্বর করা এই জিডির নম্বর ৯৮৫। জিডি পাওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নতুন আলোচনার ঝড়। বিশেষ করে সম্প্রতি আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ আমিনুল ইসলাম প্রতারণার অভিযোগে তিশার নামে মামলা দায়ের করেছিলেন, সেটি এখনও আলোচনায় আছে। আবারও শাড়িকে কেন্দ্র করে নতুন অভিযোগ আসায় এ নিয়ে বিনোদন অঙ্গনসহ জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
জিডিকারী আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া বলেন, “আমি একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষা করতে চাই। একজন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এমন আচরণ আশা করি না। বিষয়টি যখন ব্যক্তিগত হুমকি ও অপমানের পর্যায়ে চলে যায়, তখন জিডি করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।” তিনি আরও জানান, শাড়িটি ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
অন্যদিকে তানজিন তিশা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো ‘বাড়িয়ে বলা’ হয়েছে এবং তিশা শিগগিরই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। তবে এখনো তাঁর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বা মৌখিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ দর্শক, শিল্পী, সহকর্মী সবাই বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, একজন সেলিব্রিটির বিরুদ্ধে বারবার এমন অভিযোগ ওঠা প্রশ্ন তৈরি করে। আবার কেউ কেউ বলছেন, অভিনেত্রী হওয়ায় তাকে টার্গেট করে বাড়তি বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা হতে পারে।
বিনোদন অঙ্গনের একাধিক ব্যক্তিত্ব জানিয়েছেন, তারকারা প্রায় সময়ই বিভিন্ন ব্র্যান্ড, বুটিক বা ফ্যাশন হাউজের পোশাক ব্যবহার করেন অনুষ্ঠান বা শুটিংয়ের প্রয়োজনে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ভদ্রতা, আস্থা এবং পারস্পরিক পেশাদার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই সম্পর্ক যখন ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধে পরিণত হয়, তখন এমন ঘটনা সামনে আসে। আর একটি অভিযোগ আরেকটিকে উসকে দিলে সেটি শিল্পীর ইমেজেও গভীর প্রভাব ফেলে।
আইনজীবীরা বলছেন, জিডির ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত চালানো হবে এবং প্রয়োজনে তানজিন তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। তারা জানান, যদি হুমকি বা প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে ফৌজদারি আইনে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে অভিযুক্তকে। তবে বিষয়টি এখন তদন্তাধীন থাকায় নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যেতে সময় লাগবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে সেলিব্রিটিদের বিরুদ্ধে মামলা বা জিডি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তারকাদের জনপ্রিয়তা একদিকে তাদের সুযোগ এনে দেয়, অন্যদিকে ছোট ভুল বা সিদ্ধান্তও বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তাই দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং স্বচ্ছ আচরণ সর্বক্ষেত্রে জরুরি।
এখন সবার নজর তদন্তের দিকে। অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা যাই হোক, এই ঘটনার প্রভাব বিনোদন অঙ্গন থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে পড়ছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা, সম্মান বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
শেষ পর্যন্ত তদন্তই বলে দেবে—এটি ভুল বোঝাবুঝি নাকি ইচ্ছাকৃত দুর্ব্যবহার, কিংবা এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো বিরোধ। যতক্ষণ না সত্য বেরিয়ে আসে, ততক্ষণ এই ঘটনা জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে।