প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘লেজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকা’ কনসার্টটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের রক আইকন নগরবাউল জেমস এবং পাকিস্তানের জনপ্রিয় সুফি-রক শিল্পী আলী আজমতকে নিয়ে সাজানো এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার সন্ধ্যায়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন একটি কনভেনশন সেন্টারে। কিন্তু অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যাসেন কমিউনিকেশনকে পুলিশ জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত ভেন্যুতে কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে দর্শক, সংগীতপ্রেমী এবং প্রস্তুতিতে থাকা শিল্পীরা মুহূর্তেই হতাশায় পড়ে যান।
বিমানবন্দর এলাকা কেপিআইভুক্ত হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা সবসময় কঠোর থাকে। সম্প্রতি বিমানবন্দরের ভেতরে অগ্নিকাণ্ডসহ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা–সংক্রান্ত ঘটনার পর পুরো এলাকায় সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এত বড় পরিসরে কনসার্ট আয়োজনের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন ছিল। একই সঙ্গে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ একাধিক বিষয়ে নিরাপত্তা–ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় এ মুহূর্তে কনসার্টের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আয়োজকদের নতুন, নিরাপদ ও উপযুক্ত ভেন্যু খুঁজে দ্রুত পুনরায় আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কনসার্টটি ঘিরে ইতিমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। জেমসের সঙ্গে প্রথমবার একই মঞ্চে আলী আজমতের পারফর্ম করার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে দেশ–বিদেশের সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে এটি ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। গত তিন দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন আলী আজমত। দেশে এসে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জেমসের সঙ্গে একই মঞ্চে গাওয়ার উত্তেজনার কথা জানিয়েছেন। দুই দেশের সংগীতপ্রেমীরা আশা করেছিলেন, দুই কিংবদন্তির একসঙ্গে পরিবেশনা দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতমঞ্চে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করবে।
অ্যাসেন কমিউনিকেশন সকালে এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে ‘আলী আজমত অ্যান্ড জেমস: লেজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকা’ কনসার্টটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে তারা। আয়োজক প্রতিষ্ঠান বলেছে, দর্শক ও শিল্পীদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কনসার্ট নতুন ভেন্যুতে আয়োজনের জন্য কাজ শুরু করা হবে। নতুন তারিখ ও স্থান শিগগিরই জানানো হবে বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছে।
হঠাৎ সিদ্ধান্তে অনেক শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও শ্রোতা হতাশ হলেও বেশিরভাগই নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকার সাম্প্রতিক অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ মানুষই মনে করছেন, এমন জনসমাগমের আয়োজন নিরাপত্তার কারণে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যেহেতু দুই দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা এতে অংশ নিতেন, তাই আন্তর্জাতিক প্রোটোকল, শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং দর্শকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান বিবেচ্য।
অন্যদিকে, টিকিট কেটে রাখা দর্শকরা আয়োজকদের অফিস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে নতুন তারিখ জানতে চাইছেন। বহু দর্শক জানিয়েছেন, এমন একটি কনসার্ট ঢাকায় খুব কমই হয়, তাই অপেক্ষাটা তাদের জন্য সার্থক হবে, যদি শিগগিরই নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠানটি হয়। অনেকে আবার ব্যক্তিগত সময়, যাতায়াত ও থাকার পরিকল্পনা বদলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেমস ঢাকার সংগীতাঙ্গনে সবসময়ই তুমুল জনপ্রিয়। তার স্টেজ পারফরম্যান্স, স্মরণীয় গান এবং বৈদ্যুতিক পরিবেশনা যে কোনো কনসার্টকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। অপরদিকে পাকিস্তানের আলী আজমত তার ব্যান্ড Junoon–এর মাধ্যমে সুফি-রকের এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিলেন। ‘সায়োনি’, ‘যারগোঁ কা সিদ্দা’, ‘লাল মেরি পাত’–এর মতো গান তাকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। এই দুই শিল্পীর যুগল পরিবেশনা তাই দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য প্রত্যাশা তৈরি করেছিল।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণে বড় কনসার্ট আয়োজনের ইতিহাস রয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন সময় এমন আয়োজন বাতিল কিংবা স্থানান্তর করতে হয়েছে। তবুও দেশটির শ্রোতারা এখন পরিণত সংগীত পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তাই আয়োজকরা এই কনসার্টটিকে যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় আয়োজনের জন্য চাপও অনুভব করছেন।
কনসার্ট স্থগিত হলেও হতাশা কাটিয়ে নতুনভাবে আয়োজনের ঘোষণা শিগগিরই আসবে বলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। দর্শক ও সংগীতপ্রেমীরা তাই আপাতত অপেক্ষায়—কবে আবার নতুন ভেন্যু, নতুন তারিখ ও নতুন উদ্দীপনায় দুই কিংবদন্তির স্টেজ–শো দেখতে পারবেন।
একটি বিষয় স্পষ্ট—জেমস ও আলী আজমতের যুগল উপস্থিতি যখন মঞ্চে উঠবে, তখন সেটি শুধু একটি কনসার্ট হবে না; হবে দুই দেশের সংগীত ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।