হাসিনার রায় শুনতে বিশ্বসচেতনতা ট্রাইব্যুনালে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২ বার
হাসিনার রায় শুনতে বিশ্বসচেতনতা ট্রাইব্যুনালে

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে পরিচালিত ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক বৃহৎ গণঅভ্যুত্থান ও তার তৎপরবর্তী কঠোর নিবারণকৌশলকে কেন্দ্র করে পরিচালিত মামলায় আজ সোমবার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে International Crimes Tribunal‑1 (আইসিটি-১)। মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হচ্ছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এবং সারা জাতি যেন নিঃশ্বাস ধরে এক মূহুর্তের জন্য থেমে আছে। এই রায় শুধু দেশের অভ্যন্তরীন বিচারপ্রক্রিয়া নয়; আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা নির্ণায়ক মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।

এই মামলায় রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার- নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রোববার আইসিটি-১-এর রেজিস্ট্রার অফিস জানিয়েছে, আজ সকাল ১১টায় এই রায়বহুল শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। বিচারপ্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনাও রয়েছে — দেশি এবং বিদেশি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে বড় স্ক্রিন বসিয়ে জনসাধারণকে সরাসরি ফলাফল জানার সুযোগ দেওয়া হবে।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছিল পাঁচটি মূল ধাপে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদের অধিকার দাবিতে বিশাল আন্দোলন গড়ে ওঠে, যেখানে রাজকর্মি পদে কোটা সংস্কার, চাকরিতে অসমতার প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের দমনের দাবিতে আন্দোলন হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কঠিন পদক্ষেপের সঙ্গে মিলেমিশে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড, সম্পত্তি নাশ, নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও পোড়ানো। মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, শেখ হাসিনা নিজেই ওই আন্দোলনের ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমনের জন্য। তৎকালীন পুলিশ ও সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঐ নির্দেশ প্রয়োগ করতে বলা হয়েছিল বলেও মামলায় বলা হয়েছে। এই ধরণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ — যেমন মানবতাবিরোধী অপরাধের সাপেক্ষে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে যে, এই ঘটনার সময় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন পচিশ হাজারেরও বেশি, অনেকেই স্থায়ীভাবে অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন।

রায়ের ঘন্টার আগেই রাজধানী ঢাকা উত্তেজনার জায়গায় পরিণত হয়েছে। অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণ ও সাধারণ নিরাপত্তার অব্যাহত দৃষ্টিকোণ জাতিকে সতর্ক করে তোলে যে আজ শুধু একটা রায় নয় — দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোও বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেরুদণ্ড পাবে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী একাধিক এলাকায় ‘শুট-অ্যাট-সাইট’ নিয়ম কার্যকর করেছে এবং 주요 সড়ক ও আদালত সংলগ্ন এলাকা বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ নাগরিকরাও আজ একটু ভয়ের সঙ্গে প্রত্যাশার সংমিশ্রণে রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, রায় যদি দলীয় নেতাকে দুর্নীতিহীনভাবে বা শুধু শাস্তিহীনভাবে ছাড়িয়ে দেয়, তাহলে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হবে; অন্যদিকে রায় যদি কঠোর হয়, তাহলে সেটি ন্যায়ের দৃষ্টান্ত গড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

শেখ হাসিনা এই মামলায় অনুপস্থিতিতে বিচারাধীন থাকবেন — তিনি বর্তমানে ভারতবর্ষে অবস্থান করছেন এবং নিজেকে ‘নিরপরাধ’ দাবি করেছেন। মামলায় তার সঙ্গে অভিযুক্ত অন্য দুই ব্যক্তিও পালিয়ে আছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ সর্বোচ্চ সাজা, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছে। তবে আইনগত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যদান নিয়ে নানান প্রশ্ন এখনও অনসুলক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো — আদালত কতটা স্বাধীনভাবে এই রায় দিতে পারছে, রাজনৈতিক চাপে রয়েছে কি না এবং শাস্তি শুধুই একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধ হয়ে যাচ্ছে কি না।

রায়ের আর এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ হলো — সাধারণ মানুষের জন্য বিচার শুধু কারও শাস্তি নয়, বরং একটি শিক্ষা ও প্রতিরোধমূলক সংকেত হিসেবে কাজ করা। আজকের রায়-ঘণ্টা সেই অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা জীবনের একাংশ হারিয়েছেন, তাদের জন্য এই রায় একটি প্রত্যাশার দ্যুতি। তবে এ বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে রায়ের নিয়মানুসার, নিরপেক্ষ ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা নিশ্চিত হতে হবে।

রায়ের সময়ে সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারিক প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে বড় স্ক্রিন, যাতে আদালত পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও মানুষ متابعة করতে পারে। এটি একটি সামাজিক সংকেত — যে বিচারকক্ষ শুধু সীমাবদ্ধ আদালতখানা নয়, বরং সবার সামনে অনুষ্ঠিত একটি প্রক্রিয়া। এই ধরনের স্বচ্ছতা বিচারবিশ্বাসকে ঘনীভূত করতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সফলতা নির্ভর করবে রায়ের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও তার বাস্তবায়নের উপরে।

আজকের দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে এক অধ্যায়ের মোড়। রায়ের ফলাফল যেভাই হোক, তার প্রভাব থাকবে দীর্ঘমেয়াদী। বিচার যদি উদ্যোগী হয় এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কম হয়, তাহলে দেশের ভিতরে একটা নতুন যুগের সূচনা হতে পারে — যেখানে আইন শুধু শক্তি নয়, দায়িত্ব ও প্রতিদান হয়ে দাঁড়ায়। আর যদি রায় হয় স্বল্পতর বা ভেজালপূর্ণ, তাহলে অনেকের মনে দুর্বলতা ও ভ্রান্তি গভীর হবে।

সকাল থেকে রাজধানীর বড় পথ ও আদালত সংলগ্ন এলাকা সেখানে উপস্থিত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছিল। কিন্তু একরাশ তীব্র উত্তেজনা, মিশ্র অনুভূতি ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা আজ বেশ স্পষ্ট। শান্তিপূর্ণ রায়ের আগ্রহ যে শুধু একটি আদালতের জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য — সেটিই আজ সবচেয়ে বড় কথা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত