মোড়ে মোড়ে ছাত্র-জনতার ভিড়, হাসিনার ফাঁসির দাবি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
মোড়ে মোড়ে ছাত্র-জনতার ভিড়, হাসিনার ফাঁসির দাবি

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আজ চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট, মোড় এবং প্রধান শহর এলাকা বরাবর এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস এবং উত্তেজনার ছাপ দেখা গেছে। সকাল থেকেই শহরের ষোলশহর স্টেশন, কোটাবিরোধী এলাকা, চকবাজার, নিউ মার্কেট, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে হাজারো ছাত্র-যোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছে। তারা প্রত্যেকটি গলিপথ, মোড় এবং ক্রসিংয়ে উপস্থিত থেকে কেবল রায়ের প্রতি নজর রাখছে না, বরং তাদের দাবিটিও স্পষ্ট — ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।

জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এখন দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বিচারপ্রক্রিয়ার রায়ের আগ মুহূর্তে এই জনসমাগম একটি প্রতীক হিসেবে দেখা যায়, যেখানে শুধু ছাত্র-যোদ্ধারা নয়, সাধারণ নাগরিকরাও তাদের অনড় প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। ষোলশহর এলাকায় উপস্থিত চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, “শুধু জুলাই আন্দোলনে নয়, গত ১৭ বছর ধরে অসংখ্যবার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন তিনি। তাঁর ১০ বার ফাঁসিও কম হবে। আজকের রায় দেশের ইতিহাসে ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”

চকবাজার মোড়ে উপস্থিত কবির হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনার মতো মানবতাবিরোধী একজন অপরাধীকে আশ্রয় দিয়ে ভারতও সহযোগিতা করেছে। ভারত যদি সহযোগিতা না করতো, ১৭ বছরের এই অপরাধ একা সম্ভব হতো না। আমাদের দাবি, ফাঁসির রায় ছাড়া কোনো ন্যায্য বিচার হবে না।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও রায়ের দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ সতর্ক। কাজির দেউরি মোড়, অলংকার, একে খান, টাইগারপাসসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, কয়েকদিন ধরে রায়ের দিন নাশকতা চালানোর হুমকি পাওয়া গেলেও সকাল থেকে কোনও সক্রিয় কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়নি। তবে ভোররাতে ভূমি অফিসের সাইনবোর্ডসহ কয়েকটি স্থানে ককটেলের বিস্ফোরণ এবং চোরাগোপ্তা হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

শহরের মোড়ে মোড়ে ছড়িয়ে থাকা ছাত্র-যোদ্ধারা শুধু রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন না, তারা তাদের প্রত্যাশা এবং ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, ফাঁসির রায় ছাড়া অন্য কোনো সিদ্ধান্ত হলে তারা আবার রাজপথে নামবেন। পাশাপাশি, ভারতে পলাতক থাকা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবিও জোরালোভাবে জানাচ্ছেন।

নিরাপত্তার কারণে র‌্যাব এবং পুলিশ মোড়ে মোড়ে উপস্থিত থেকে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার সাদা পোশাকধারী কর্মকর্তাদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে হঠাৎ কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। রায়ের দিনটি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, সেই লক্ষ্যে সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নগরীর নিউ মার্কেট এলাকা থেকে নেওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে ছাত্র-জনতা বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করে বিভিন্ন ধরণের প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার ধারণ করেছে। তারা ফাঁসির দাবিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য নানা স্লোগান দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ব্যথা এবং ক্ষোভ নিয়ে হাজির, যারা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ে আহত বা আহতদের পরিবার।

ছাত্র-যোদ্ধারা মনে করছেন, রায়ের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে ন্যায়ের প্রতীক স্থাপন করা হবে। তারা বলছেন, এই রায় শুধু একটি ব্যক্তির জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা দেবে যে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা কেউ মানবিক ও আইনগত দায় থেকে উপরে নয়।

প্রত্যেক মোড় এবং চেকপোস্টে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, সকাল থেকেই কোনও রাজনৈতিক সংঘাত বা অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। তবে রায়ের দিনটির গুরুত্ব এবং জনসমাগমের কারণে নিরাপত্তা তৎপরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব এবং বিজিবি একযোগে প্রাঙ্গণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন।

এদিকে, মোড়ে মোড়ে উপস্থিত জনতার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তারা দাবি করছেন, রায়ের দিন ফাঁসির রায় ঘোষণা না হলে আবার গণঅভ্যুত্থানের পথ বেছে নেওয়া হবে। তারা চাইছেন, ইতিহাসের এই অধ্যায়তে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বন্ধ করা হোক।

শহরের প্রধান মোড়গুলোতে ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ নাগরিকদের ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছে, রায়ের দিনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হয়ে যাবে। প্রত্যেক জনতার চোখে শিখর ওঠা উত্তেজনা, হৃদয়ে ন্যায়ের জন্য আকাঙ্ক্ষা এবং মানসিক প্রস্তুতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে।

আজকের এই জনসমাগম শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়; এটি একটি সামাজিক প্রতীক, যেখানে মানুষের আশা, ক্রোধ, এবং ন্যায়ের প্রত্যাশা একসঙ্গে ফুটে উঠেছে। তারা মনে করছেন, রায় ঘোষণার মাধ্যমে শুধুমাত্র আইন প্রতিষ্ঠা হবে না, বরং দেশের জন্য একটি নৈতিক ও মানবিক বার্তা প্রতিষ্ঠা পাবে।

শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের অন্যান্য শহর থেকেও মানুষের নজর মোড়া মোড়া ভিড়ে। রায়ের প্রতিটি মুহূর্তে জনতার মনোযোগ, স্লোগান, এবং প্রত্যাশা স্পষ্ট। তারা বলছেন, রায় ঘোষণার পর যদি ফাঁসির রায় আসে, সেটি দেশের জন্য একটি ইতিহাসবদ্ধ মুহূর্ত হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতের জন্য ন্যায়ের দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।

এভাবে, মোড়ে মোড়ে ছাত্র-জনতার উপস্থিতি, তাদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং ফাঁসির দাবির দৃঢ় মনোভাব একত্রিত হয়ে রায়ের দিনটিকে অনন্যভাবে গড়ে তুলেছে। এই দৃশ্যমান জনসমাগম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং মানুষের ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষা মিলিয়ে আজকের দিনটি বাংলাদেশে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত