শিশুর সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখার গুরুত্ব

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
শিশুর সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখার গুরুত্ব

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিশুর নাম শুধু পরিচয়ই নয়, এটি তার জীবনের পথপ্রদর্শক এবং মানসিকতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। প্রতিটি অভিভাবকের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যে নাম তারা সন্তানের জন্য বেছে নেবে তা কেবল সুন্দরই নয়, বরং অর্থবোধক ও প্রভাবশালী হওয়া উচিত। নামের মাধ্যমে একটি শিশুর চরিত্র, মনোভাব এবং সামাজিক পরিচয় গঠিত হয়। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নামের গুরুত্ব অপরিসীম। নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুর নামকরণের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং খারাপ বা নেতিবাচক অর্থবোধক নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখার নজির রেখে গেছেন।

ইসলামে নামের গুরুত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই এমন নাম পছন্দ করতেন না যার অর্থ নেতিবাচক বা নিন্দনীয়। হযরত ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদীসে বলা হয়েছে, হযরত ওমরের এক মেয়ের নাম ছিল ‘আছিয়া’, যার অর্থ ছিল অবাধ্য। নবীজী এই নাম পরিবর্তন করে ‘জামিলা’ রাখার নির্দেশ দেন, যার অর্থ সুন্দর। (মুসলিম ২১৩৯) এই ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশুর নামের অর্থ তার চরিত্র ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটি হাদীস অনুযায়ী, হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের দাদা হাযান নাম ধারণ করতেন, যার অর্থ শক্ত জমিন। নবীজী তাকে ‘সাহল’ অর্থাৎ নরম জমিন নামকরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান, যা ফলস্বরূপ তাদের বংশে রুক্ষতা এবং কর্কশভাবের প্রভাব তৈরি করেছিল। (বুখারি ৫৮৬৪) এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে নামের অর্থ শিশুর চরিত্র ও স্বভাবের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীগণের নামে নাম রাখারও উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো ‘আবদুল্লাহ’ এবং ‘আবদুর রহমান’। এ ছাড়া তিনি সবচেয়ে সত্য নাম হিসেবে ‘হারেস’ (চাষি) এবং ‘হাম্মাম’ (উদ্যমী) নামকে উল্লেখ করেছেন। বিপরীতে, ‘হারব’ (যুদ্ধ) এবং ‘মুররাহ’ (তিক্ততা) নামগুলোকে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ ৪৯৫০) নবীজীর এই নির্দেশনা শিশুর নামকরণের ক্ষেত্রে নৈতিক ও ইতিবাচক দিকের গুরুত্ব তুলে ধরে।

ইসলামে অহংকার বা ঔদ্ধত্য প্রকাশকারী নামও অপছন্দনীয়। যেমন, ‘মালিকুল আমলাক’ অর্থাৎ রাজাধিরাজ নামের ক্ষেত্রে নবীজী গভীর আপত্তি জানিয়েছিলেন। কারণ, কিয়ামতের দিনে এই ধরনের নাম আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হবে। (বুখারি ৬২০৫) এটি নির্দেশ করে যে নামকরণের ক্ষেত্রে কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং তা নৈতিক ও সামাজিক প্রভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একটি শিশুর নামের অর্থ তার মানসিকতা, চরিত্র এবং জীবনের পথপ্রদর্শনে প্রভাব ফেলে। অর্থহীন বা নেতিবাচক অর্থবোধক নাম শিশুর ব্যক্তিত্বে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাই নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কেবল অভিনব বা আলাদা হওয়ার দিকে নজর না দিয়ে, এর অর্থ, প্রভাব এবং ইসলামিক নির্দেশনা বিবেচনা করা উচিত।

শিশুর জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন কেবল একটি পরিচয় নয়, এটি তার জীবনের মানসিক ও নৈতিক উন্নয়নের পথপ্রদর্শকও বটে। ইসলাম আমাদের নামের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে। নবীজীর নির্দেশনা অনুযায়ী, সুন্দর ও অর্থবোধক নাম শিশুর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাকে একটি শক্তিশালী, প্রভাবশালী এবং নৈতিক পরিচয় প্রদান করে।

তাই প্রতিটি অভিভাবককে উচিত সন্তান জন্মানোর পর তার নামকরণে বিশেষ যত্নবান হওয়া। নামকরণে ইসলামিক হাদীস ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করলে শিশুর জীবনে ইতিবাচক চরিত্র, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। সুন্দর ও অর্থবোধক নাম শিশুকে শুধু পরিচয়ই দেয় না, বরং তার মানসিক, নৈতিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।

সংক্ষেপে, শিশুর নামকরণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়, এটি তার জীবনের প্রথম প্রভাবশালী পদক্ষেপ। ইসলামিক নির্দেশনা অনুযায়ী সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখার মাধ্যমে শিশুর চরিত্র ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব। তাই প্রতিটি অভিভাবককে সচেতনভাবে সন্তানের জন্য অর্থবোধক, সুন্দর এবং নৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ নাম বেছে নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত