প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মঙ্গলবার পাল্লেকেলেতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এই ম্যাচটিকে অলিখিত ফাইনাল বলাই চলে, কারণ সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। যে দল জয় পাবে, তার হাতেই উঠবে ট্রফি।
সিরিজের শুরুটা বাংলাদেশ দলের জন্য সুখকর ছিল না। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় টাইগারদের। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দাপুটে জয় নিয়ে ফিরেই সমতা আনে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ফলে শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে, যেখানে জয় মানেই শিরোপা।
শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতা এখনো হয়নি বাংলাদেশের। এখন পর্যন্ত দুইবার সুযোগ এলেও বৃষ্টির কারণে উভয় সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল। এবারের ম্যাচ তাই হয়ে উঠেছে এক নতুন ইতিহাস লেখার সম্ভাবনা—যেখানে জয়ের মাধ্যমে লঙ্কানদের ঘরের মাঠেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করতে পারে টাইগাররা।
ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। শ্রীলঙ্কা অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামলেও বাংলাদেশ একাদশে এসেছে একটি পরিবর্তন। পেসার হাসান মাহমুদের জায়গায় একাদশে ফিরেছেন অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ। এই পরিবর্তনেই বোঝা যাচ্ছে, আজকের ম্যাচে বোলিং আক্রমণকে আরও ধারালো করে তোলার দিকে মনোযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দলের আজকের একাদশে জায়গা পেয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), জাকের আলী অনিক, তানজিম হাসান সাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান, তানভীর ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা খেলছে এই একাদশ নিয়ে: নিশান মাদুশকা, পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), জানিথ লিয়ানাগে, দুনিথ ভেল্লালাগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মহেশ থিকশানা, দুষ্মন্ত চামিরা ও আসিথা ফার্নান্দো।
সিরিজ জেতার জন্য এই ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং উভয় বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে স্পিনবান্ধব উইকেট ও প্রতিপক্ষের কৌশল বিবেচনায় বল হাতে মিরাজ, তানভীর ও তাসকিনের ওপর থাকবে অতিরিক্ত দায়িত্ব। অন্যদিকে ব্যাট হাতে ওপেনার তানজিদ ও ইমনের ভালো সূচনা এবং শান্ত-হৃদয়-মিরাজদের দায়িত্বশীল ইনিংসই গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভীত।
আজকের ম্যাচে শুধুই জয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক স্মরণীয় অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ। টিম টাইগাররা যদি নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে পারে, তাহলে ২০২৫ সাল হতে পারে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত বছরের নাম, যখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উল্লাসে ভাসবে।