স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী দোয়া

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী দোয়া

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মানুষকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ তায়ালা এবং তাদের মধ্যে যে পবিত্র সম্পর্ক দিয়েছেন, সেটি মানুষের জীবনের অন্যতম মূল্যবান বন্ধন। স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা শুধুমাত্র একটি আবেগ নয়, বরং এটি আল্লাহর রহমত ও বরকতের প্রতিফলন। তবে শয়তান সর্বদা চেষ্টা করে এই সম্পর্ককে নষ্ট করতে। তাই মধুর প্রেমময় এই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে এবং একে আরও গভীর ও আন্তরিক করার জন্য দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য এমন একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন যা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সুষ্ঠুতা ও সন্তানের কল্যাণের জন্য কার্যকর। কুরআন মাজীদে এটি উল্লেখিত হয়েছে:

وَالَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا ہَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّاجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا

উচ্চারণ: অল্লাজিনা ইয়াকুলূনা রব্বানা-হাবলানা-মিন আজওয়া-জ্বিনা-অ র্যুরিয়্যা-তিনা-কুররাতা আইয়ুনিঁও অজআলনা-লিলমুত্তাকিনা ইমামা।

এর অর্থ: “যারা (এই) বলে (দোয়া করে যে), হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ হতে দান কর নয়নপ্রীতি এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানাও।” (সুরা আল ফুরকান-৭৪)

মুফতি তাকি উসমানি তাফসিরে উল্লেখ করেছেন, সাধারণত পরিবারে পিতা বা স্বামীই দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে থাকে। কুরআন মাজীদ এই দোয়ার মাধ্যমে নির্দেশ দিচ্ছে যে, একজন পিতা ও স্বামী যখন তার পরিবারকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, তখন আল্লাহ তাকে মুত্তাকিদের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করুন এবং তার স্ত্রী-সন্তানদেরকে তার জন্য নয়নপ্রীতি দান করুন। অর্থাৎ এই দোয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং সৎ আচরণের সেতুবন্ধন দৃঢ় করা।

এই দোয়া নিয়মিতভাবে পড়ার মাধ্যমে পরিবারে শান্তি, সুস্থতা এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। যারা নিজেদের পরিবারবর্গের আচরণে অতিষ্ঠ এবং অসন্তুষ্ট, তাদের জন্যও এই দোয়া সমাধানের পথ খুলে দেয়। এটি এমন এক শক্তিশালী দোয়া যার মধ্যে জীবন ও পরিবারের সব দিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দোয়ার মধ্যে বলা হয়েছে ‘চক্ষুশীতলকারী’ বানিয়ে দিন। এর অর্থ হলো পরিবারের সদস্যদের এমন দৃষ্টি ও আচরণ উপহার দেওয়া যা মন ও প্রাণকে প্রশান্তি দেয়, সুখ ও আনন্দ বৃদ্ধি করে এবং সব ধরনের বিপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করে।

পবিত্র দোয়ার মূল বক্তব্য হলো, স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে সুস্থ ও সুখী সম্পর্ক স্থাপন করা। যখন পরিবারের সকল সদস্য ভালো থাকেন, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন এবং পরস্পরের জন্য কল্যাণ কামনা করেন, তখন সত্যিকার অর্থে ‘চক্ষুশীতল’ অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এই দোয়ার নিয়মিত পাঠ পারিবারিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও সুগভীর করে।

তাফসিরে আরও উল্লেখ আছে, এই দোয়া কেবল ব্যক্তিগত কল্যাণের জন্য নয়, বরং এটি একজন পিতা ও স্বামীকে একটি দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরিবারকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য এই দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মানুষ যখন এই দোয়া দ্বারা পরিবারের কল্যাণ কামনা করে, তখন পরিবারে আন্তরিক ভালোবাসা ও পরস্পরের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি পায়।

এ দোয়া পঠনের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছে আবেদন করে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নয়নপ্রীতি এবং সুস্থতা প্রার্থনা করে। এটি কেবল সম্পর্ককে মধুর করে না, বরং পরিবারের মধ্যে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করে। এতে প্রত্যেক সদস্য একে অপরের জন্য আনন্দ ও প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিনের জীবনে এই দোয়া পাঠ করা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী সুখী ও স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক। এটি কেবল আবেগের বৃদ্ধি নয়, বরং পরিবারকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সুসংগঠিত রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। পরিবারের নেতা হিসেবে একজন পিতা বা স্বামী এই দোয়া পাঠ করলে তিনি পরিবারের কল্যাণের জন্য দায়িত্বশীল ও সচেতন হন এবং সন্তান ও স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

সংক্ষেপে বলা যায়, কুরআনের এই দোয়া স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে মধুর ও সুগভীর করার এক অনন্য উপায়। এটি পরিবারকে শান্তি, সুস্থতা ও কল্যাণে পরিপূর্ণ করে, এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বৃদ্ধি করে। জীবন ও পরিবারের সব দিককে আল্লাহর রহমত ও বরকত দ্বারা পূর্ণ করার জন্য এই দোয়া নিয়মিত পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত