যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন আলী রীয়াজ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন আলী রীয়াজ

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফেরার সাথে সাথেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার সফরের উদ্দেশ্য ও সম্প্রতি নিযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২ নভেম্বর পেশাগত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে বাংলাদেশের মূল সংবিধান এবং পরে সংবিধানে আনা সংশোধনীর মাধ্যমে কিভাবে জাতি ও জাতীয়তাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তা রাজনীতি ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করছে, তা নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনারে বক্তৃতা দেন। তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের সঠিক প্রয়োগ এবং দেশের নাগরিকদের মধ্যে ন্যায়, সমতা ও সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মেয়াদ গত ৩১ অক্টোবর শেষ হয়। মেয়াদকালে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই ধাপের সংলাপ সম্পন্ন করেন, যার ফলস্বরূপ জুলাই মাসে জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়। এই সনদ দেশের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

নির্ধারিত সময়সূচির অংশ হিসেবে অধ্যাপক আলী রীয়াজ গত ২৭ অক্টোবর সরকারকে জুনিয়র ও সিনিয়র পর্যায়ের সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে একাধিক সুপারিশ প্রদান করেন। তার সুপারিশের ভিত্তিতে ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে। একই দিনে অধ্যাপক আলী রীয়াজকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে নিযুক্ত করা হয়।

তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক। দেশের বাইরে থাকার সময়ও তিনি নিয়মিত সংবিধান এবং রাজনৈতিক সংলাপ সম্পর্কিত বিষয়ে গবেষণা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটিসংক্রান্ত কিছু কাজ ছিল, তবে তিনি ১৩ নভেম্বর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ বক্তৃতা প্রদান করেন।

দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কাজ ছিল এবং ১৩ নভেম্বর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বক্তৃতা দিয়েছি। এই সময়ই আমাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। দেশে ফিরে আমি আশা করি নতুন দায়িত্বে দেশের সংবিধান ও ন্যায়বিচারের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, তার নতুন দায়িত্ব কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং এটি দেশের সংবিধান, আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। অধ্যাপক আলী রীয়াজের দীর্ঘমেয়াদী অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান তার এই নতুন দায়িত্বের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, অধ্যাপক আলী রীয়াজের দেশে ফেরা এবং নিযুক্তি নতুন প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তার বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংবিধান বিষয়ে গভীর জ্ঞান দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ সহকারী হিসেবে তার দায়িত্বের মূল লক্ষ্য হলো সংবিধান রক্ষা, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

এই নিযুক্তি রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তারা মনে করছেন, অধ্যাপক আলী রীয়াজের অন্তর্ভুক্তি দেশের সংবিধান ও রাজনৈতিক সংলাপকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংবিধান ও নাগরিক দায়িত্বের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। তার নেতৃত্বে দেশের সংবিধান সংরক্ষণ এবং ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার আশা জাগছে।

দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে তার স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অধ্যাপক আলী রীয়াজের এই সফর এবং নতুন দায়িত্ব দেশের শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশের রাজনীতি, সংবিধান ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রের উন্নয়নে তার নতুন দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি দেশে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে নতুন দায়িত্বে কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সংবিধান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের দেশে ফিরে আসা কেবল তার ব্যক্তিগত সফরের সমাপ্তি নয়, বরং দেশের সংবিধান এবং রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার পেশাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেশের সংবিধান ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত