বিজয় দিবসে এবারও প্যারেড হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
ওসিদেরও লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে এবারও কোনো সামরিক প্যারেড আয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য কোনো ধরনের নাশকতা বা অস্থিরতার আশঙ্কা নেই। তবে, এবার অনুষ্ঠানসূচি আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও সম্প্রসারিত হবে।”

এদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত বছরও বিজয় দিবসের প্যারেড আয়োজন করা হয়নি। তিনি বলেন, “বিজয় দিবসের মূল তাৎপর্য হলো দেশের মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে সম্মান জানানো। তাই অনুষ্ঠানগুলো হবে যথাযথভাবে, সংহতি ও মর্যাদার সঙ্গে।”

প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে বিজয় দিবস পালিত হয়। স্বাধীনতার মহান অর্জন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস স্মরণে এই দিনটি দেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে। তবে সামরিক প্যারেড আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নতুন নয়; এটি গত কয়েক বছর ধরে অনুসৃত একটি রীতি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিজয় দিবস উদযাপন মূলত স্মরণে ও সংহতিতে কেন্দ্রিত থাকবে, তবে সামরিক শক্তির প্রদর্শনী এইবারও অনুষ্ঠিত হবে না।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বাসা থেকে তুলে নেওয়া ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া ডিবি পরিচয়ে কর্মীদের মাধ্যমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, “এই বিষয়ে আমি এখনই বিস্তারিত বলতে পারছি না। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “দেশে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোনো অসঙ্গতি বা আইনগত বিষয় থাকলে আমরা তা যথাযথভাবে সমাধান করব।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করবে এবং পরিস্থিতি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হবে।

বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধান শহরগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি, বিশেষ সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান এবং ভ্রমণযোগ্য স্থানগুলোতে ইতিহাসবোধক প্রদর্শনী রাখা হয়েছে।

অবশ্য, সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণহীন প্যারেডের সিদ্ধান্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, এটি স্বাধীনতার মহৎ ইতিহাসকে স্মরণে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না বরং উৎসবকে আরও জনসম্মুখে এবং মানুষকেন্দ্রিক করবে। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, প্যারেডের অনুপস্থিতি দেশের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার প্রতিফলনও হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় আরও বলেন, “বিজয় দিবস উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব ও অর্জনকে স্মরণ করা। সামরিক প্রদর্শনী ছাড়া আমাদের লক্ষ্য থাকবে ইতিহাসকে সঠিকভাবে প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জাতীয় সংহতি বজায় রাখা।”

অপরদিকে, নাগরিক সমাজ ও ইতিহাসচর্চার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব অনুষ্ঠানসূচি ঘোষণা করেছে। স্কুল ও কলেজগুলোতে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল করা হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্যারেডের অনুপস্থিতি কোনো নেতিবাচক সংকেত নয়, বরং এটি উদযাপনের নতুন রূপ। তিনি উল্লেখ করেন, “বিজয় দিবস শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি আমাদের মুক্তি সংগ্রাম ও জাতির ঐতিহ্যের সম্মান। আমরা চাই সকল মানুষ তা উপলব্ধি করুক এবং দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত হোক।”

সংক্ষেপে বলা যায়, বিজয় দিবস উদযাপনের এই বছর প্রশাসনের দৃষ্টিকোণ হবে ইতিহাসচেতনামূলক, মানবিক এবং শান্তিপূর্ণ। সামরিক প্যারেড না থাকলেও, দেশের নাগরিকরা এবং তরুণ প্রজন্ম ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বক্তব্যে উদ্ভাসিত হচ্ছে দেশের ইতিহাস, সংহতি ও নাগরিক দায়বদ্ধতার মূলমন্ত্র, যা প্রতিটি প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত