প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও একটি বড় সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনকে ১০৫ মিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের জন্য সহায়তা দেবে। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবিলায় তাদের সহায়তা করা।
এই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইউক্রেনের M901 লঞ্চারগুলোকে আধুনিক M903 সংস্করণে উন্নীত করা, গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য লজিস্টিক ও প্রোগ্রামিক সহায়তা। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান সংস্থা — RTX কর্পোরেশন ও লকহিড মার্টিন — এই প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্বে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তকে তাদের বিদেশনীতি ও নিরাপত্তা নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে এই ধরনের প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া তাদের কাছে ইউরোপের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ। প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের মাধ্যমে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়বে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সম্প্রতি আরও কিছু প্যাট্রিয়ট সিস্টেম দেশে এসেছে এবং সেগুলো সক্রিয় করা হচ্ছে। তবে, কিয়েভ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও, যা সরাসরি অনুমোদন পায়নি। এই ধরনের অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে নানাবিধ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রক্ষণাবেক্ষণ প্যাকেজ কেবল সামরিক সহায়তা নয়, বরং এটি ইউক্রেনকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করবে। প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের মাধ্যমে ইউক্রেন নিজস্বভাবে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে।
ইউক্রেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী হবে, যা রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরণের সহায়তা ইউক্রেনের সামরিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের আত্মরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর মার্কিন সামরিক সহায়তার পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা ইউক্রেনকে প্রদান করা হয়েছে। নতুন ১০৫ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজের মাধ্যমে তাদের সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ন্যায্যতা, কূটনৈতিক ব্যালান্স এবং ইউক্রেনের স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। এটি শুধু সামরিক সহায়তা নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে সমর্থন করবে।










