নির্বাচনি প্রচারে তারেকের ছবি ব্যবহারে এনসিপির কড়া আপত্তি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
নির্বাচনি প্রচারে তারেকের ছবি ব্যবহারে এনসিপির কড়া আপত্তি

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রহর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেখানে নিজ নিজ অবস্থান শক্তিশালী করতে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত, সেখানে নির্বাচনসংক্রান্ত নানা বিধি-বিধান ও আচরণবিধি নিয়েও দেখা দিচ্ছে নতুন নতুন বিতর্ক। ঠিক এমন সময় নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংলাপে নির্বাচনি প্রচারণা ঘিরে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—বিএনপির প্রচারণায় তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তীব্র আপত্তি।

বুধবার অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিয়ে এনসিপির নেতারা বলেন, দলীয় প্রধানের ছবি প্রচারণায় ব্যবহার করাই রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিএনপির অনেক প্রার্থী তাদের চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার পরিবর্তে তারেক রহমান কিংবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যবহার করছেন। এনসিপির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী এবং প্রার্থীদের পরিচয় বিভ্রান্তিকরভাবে তুলে ধরতে পারে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও পটুয়াখালী জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, বিএনপির প্রধান তো স্পষ্টভাবেই ম্যাডাম খালেদা জিয়া। তার ছবি ব্যবহারে এনসিপির কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যেসব প্রার্থী তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করছেন, সেটা রাজনৈতিকভাবে যথাযথ নয় এবং প্রশ্নের জন্ম দেয়। তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, যাতে প্রচারণায় অযথা ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বা অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

সংলাপে অংশ নেওয়া এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও একই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন—গণভোট। তার অভিযোগ, নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গণভোট আয়োজনের কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। ভোটের দিন ঘনিয়ে এলেও ইসির কার্যক্রমে তিনি কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় গণভোট অবহেলার শিকার হওয়া দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আশঙ্কাজনক বার্তা বহন করতে পারে।

সংলাপে আরেকটি আলোচিত প্রসঙ্গ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক ব্যবহারের নিয়মাবলি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রতিটি দলকে নিজস্ব প্রতীক বা পরিচয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। অন্য দলের প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দল জোটবদ্ধ হলেও প্রার্থীদেরকে অবশ্যই নিজেদের দলের প্রতীকেই ভোট করতে হবে। ধার করা বা অস্থায়ীভাবে নেয়া প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে তা শুধু রাজনৈতিক দুর্বলতাই বাড়াবে না, বরং ভোটারদের সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করতে পারে।

এনসিপির এই বক্তব্যগুলো নির্বাচনি পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার নিয়ে যে আপত্তি তারা তুলেছে, তা বিএনপির প্রচার কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দলগুলো যেভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে, তাতে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হবে বলেই মনে হচ্ছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তা কমিশনকেও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করবে বলে ধারণা।

অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগকে তারা কতটা গুরুত্ব দেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দলটি বরাবরই বলেছে, তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান অনুযায়ীই তারা প্রচারণা চালাতে চায়। তবে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা ও দলের প্রতি তার দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব কিছু প্রার্থীকে তার ছবিকে প্রচারে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে পারে বলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

বৃহস্পতিবারের সংলাপটি ছিল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক আলোচনার একটি অংশ। এই আলোচনাগুলোতে বিভিন্ন দল নিজেদের দাবি-দাওয়া, উদ্বেগ ও সুপারিশ তুলে ধরছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, এসব পর্যালোচনা করে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে মাঠপর্যায়ের নানা কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক উত্তাপ এবং দলগুলোর অভিযোগ-আপত্তি কমিশনের জন্য যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তা স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ছে প্রতিটি সংলাপে।

এনসিপির বক্তব্য তাই শুধু একটি দলের অবস্থান নয়, বরং নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার একটি সামগ্রিক দাবি বলেই মনে হচ্ছে। তারা প্রচারণায় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার বদলে দলীয় নেতৃত্বের স্বচ্ছ উপস্থাপন, গণভোটের প্রস্তুতি দ্রুত শুরু করা এবং প্রতীকের ব্যবহারে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার যে আহ্বান জানিয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের জন্যও একধরনের সতর্কবার্তা।

দেশ যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। জনগণের আস্থা ও গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তির ওপরেই নির্ভর করছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা। তাই এখন নজর থাকবে—ইসি এসব অভিযোগ ও সুপারিশের আলোকে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এবং রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত