প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
একবছর পর আবারও ঢাকায় এসে হাজির হচ্ছেন পাকিস্তানি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। এবার তিনি মঞ্চে গাইবেন ‘ইকোস অব রেভল্যুশন ২.০’ শীর্ষক কনসার্টে। এই কনসার্টের আয়োজক ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ প্ল্যাটফর্ম, যারা মূলত জুলাই আন্দোলনের সময় শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য কাজ করে। আয়োজনকারীরা জানিয়েছেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ যাবে জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানকারী জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে। সম্প্রতি, ২ নভেম্বর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আয়োজকদের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেবে।
ঢাকায় আতিফ আসলামের সর্বশেষ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর, আর্মি স্টেডিয়ামে। সেই অনুষ্ঠানের শীর্ষক ছিল ‘ম্যাজিক্যাল নাইট ২.০’, যা আয়োজন করেছিল ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন। এবার কনসার্টের শুরুর অংশে দর্শকরা উপভোগ করবেন লোকসংগীত এবং কাওয়ালি পরিবেশনা। এছাড়াও কনসার্টে থাকবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত আলোকচিত্র প্রদর্শনী, গ্রাফিতি, মঞ্চনাটক এবং ভিডিওচিত্র। এই আয়োজনের মাধ্যমে শুধু বিনোদনই নয়, দর্শকরা পাবেন ইতিহাস এবং সমাজ সচেতনতাসহ শিল্পের এক অনন্য মেলবন্ধন।
‘স্পিরিটস অব জুলাই’ প্ল্যাটফর্ম গত বছর ডিসেম্বরেও ঢাকায় আয়োজন করেছিল ‘ইকোস অব রেভল্যুশন’ শীর্ষক কনসার্ট। সেদিন বিনা পারিশ্রমিকে গান পরিবেশন করেছিলেন পাকিস্তানি খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী রাহাত ফাতেহ আলী খান। সেই কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত আয় ১ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার ৪৮৫ টাকা JULY শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দান করা হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে কনসার্টের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক বিনোদন একসাথে অর্জন করা সম্ভব।
আতিফ আসলামের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘তু চাহিয়ে’, ‘জিনা জিনা’, ‘দিল দিয়া গাল্লা’, ‘ম্যায় তেনু সামজাওয়ান কি’, ‘ওরে প্রিয়া’, ‘মেরে পিয়া ঘর আয়া’, ‘পেহলি নজর মে’, ‘তেরে লিয়ে’ এবং আরও বহু গান। তার গান শুধু সঙ্গীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করে না, বরং সামাজিক বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। তাই এবারের কনসার্ট কেবল বিনোদন নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ইতিহাস-সচেতনতার অংশ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কনসার্টে অংশগ্রহণকারীরা কেবল আতিফের জনপ্রিয় গান শুনবেন না, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হবেন। আলোকচিত্র প্রদর্শনী, গ্রাফিতি ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে প্রজেক্ট করা হবে সেই আন্দোলনের সময়ের চিত্র এবং শহীদ ও আহতদের সংগ্রামের গল্প। মঞ্চনাটকও হবে অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা দর্শকদের আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সামাজিক প্রভাব বোঝাতে সাহায্য করবে।
পূর্ববর্তী বছরের কনসার্টের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দর্শকরা শুধুমাত্র গান শুনতে এসে সামাজিক সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এতে কেবল বিনোদনই নয়, সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যও অর্জিত হয়েছে। এবারের ‘ইকোস অব রেভল্যুশন ২.০’ কনসার্টও সেই ধারাবাহিকতাকে অব্যাহত রাখবে।
আয়োজকরা আশা করছেন, এই কনসার্ট দেশের যুবসমাজকে প্রেরণা দেবে এবং সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক ঐক্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। কনসার্টের আয় পুরোপুরি JULY শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যাবে, যা শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তায় ব্যয় হবে। এতে মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
অতীতের কনসার্টগুলো থেকে দেখা গেছে, আতিফ আসলামের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তার কণ্ঠস্বর এবং আবেগপূর্ণ পরিবেশন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এবারের কনসার্টেও তার জনপ্রিয় গান যেমন ‘দিল দিয়া গাল্লা’, ‘মেরা গীত আমার কর দো’ এবং ‘ও লামহে’ পরিবেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো শ্রোতাদের সঙ্গে আতিফের আবেগঘন সংযোগ তৈরি করবে এবং কনসার্টকে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত করবে।
ঢাকার সঙ্গীতপ্রেমীরা এখন কেবল তার মঞ্চায়নের দিনটির ঘোষণা অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামী ১২ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এই কনসার্ট শুধু এক সাধারণ সংগীতানুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা, ইতিহাস সচেতনতা এবং মানবিক সহায়তার এক অনন্য মিলনবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হবে।