ডাকসু নেত্রী রাফিয়ার বাড়িতে হামলা, আতঙ্কে পরিবার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬১ বার
ডাকসু নেত্রী রাফিয়ার বাড়িতে হামলা, আতঙ্কে পরিবার

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচিত সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া’র ময়মনসিংহের বাড়িতে বুধবার গভীর রাতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রাতের দেড়টার দিকে নগরের ঢোলাদিয়া এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতকারীরা ককটেল নিক্ষেপ এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে বাড়িতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় পরিবারে এক চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

পরিবার সূত্র জানায়, হামলাকারীরা বাড়ির প্রবেশদ্বারে কেরোসিন বা পেট্রোলজাতীয় জ্বলনযোগ্য পদার্থ ছড়িয়ে আগুন ধরাতে চেয়েছিল। পাশাপাশি একটি কাঁচা বোমার মতো বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।幸পরিবারের সদস্যরা তখন ঘুমাতে ছিলেন। বিস্ফোরণ ও আগুনের শব্দে তারা ছুটে বের হয়ে অবস্থা সামাল দেন। যদিও বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয়নি, তবে বাড়ির গেট ও আশেপাশে পোড়া ছাই ও কালচে দাগ দেখা গেছে।

ঘটনার পর রাফিয়ার ছোট ভাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বোমা ও আগুনজাত পদার্থ ব্যবহারের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনার পর বিভিন্ন মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ঢাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রোক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, “রাফিয়ার ময়মনসিংহের বাসায় হামলা হয়েছে, আগুন দেওয়া হয়েছে। জুলাই পরবর্তী সময়ে যারা নারীদের নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেককে রাফিয়ার প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার পর চুপ থাকতে দেখা গেছে। আপনারা যতবার রাজনৈতিক স্বার্থে নারীদের ওপর ভিত্তি করে দ্বিচারিতা করবেন, ততবার আমাদের জন্য হুমকি তৈরি হবে—অনলাইনে হোক বা বাস্তব জীবনে।”

মোনামি তার স্ট্যাটাসে নারীদের প্রতি কিছু মানুষের দ্বিচারিতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা সাধারণ পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তার কথা বলেন, কিন্তু প্রাকৃতিক বিপদের মুখে বা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সেই নারীদের প্রতি অসহায় বা নীরব থাকেন, তারা সমাজে একটি ভয়ঙ্কর সংকেত পাঠাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনায় পুরো এলাকা চাঞ্চল্যের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, এই ধরনের হামলা শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও নারীদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করে। এতে কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঢাবির শিক্ষকমণ্ডলীর একাংশ বলছে, রাজনৈতিক কারণে নারীদের উপর এই ধরনের হুমকি এবং সহিংসতা সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর precedent তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষাজীবী নারীদের জন্য এটি একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। শিক্ষাব্যবস্থায় সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

রাফিয়ার পরিবারও সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা এই হামলার শিকার হলেও আতঙ্কের মধ্যেই একে অপরকে সাহস যোগাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা আশা করেন রাষ্ট্র এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এই হামলার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও শিক্ষাজীবী নেত্রীদের ওপর হুমকির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা একটি গভীর সামাজিক সংকটের প্রতিফলন, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নারী নেতৃত্বের প্রতি হুমকি সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

সবমিলিয়ে, ময়মনসিংহে রাফিয়ার বাড়িতে ঘটে যাওয়া এই হামলা শুধু একজন ডাকসু নেত্রীকে লক্ষ্য করে হয়নি, এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতার একটি ভয়ঙ্কর প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক, শিক্ষাবিদ এবং মানবাধিকার কর্মীরা একযোগে এই ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিরাপদ শিক্ষাজীবন ও নারী নিরাপত্তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত