সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরু

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরু

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আজ থেকে দেশের সব সরকারি স্কুল এবং মহানগর, জেলা, উপজেলা ও সদর বেসরকারি স্কুলে নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা ও উৎসাহ বিরাজ করছে, কারণ কয়েক বছরের মতো এবারও ভর্তি কার্যক্রম ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে সহজে আবেদনের সুযোগ পাবেন, যা সময় এবং শ্রম দুটোই বাঁচাবে।

ভর্তির আবেদন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই সময়সীমার মধ্যে যে কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরাও সহজে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বলে অভিভাবকরা আশাবাদী। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনলাইন প্রক্রিয়া একটি বড় সহায়ক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) বৃহস্পতিবার ভর্তির বিস্তারিত নিয়মাবলি প্রকাশ করেছে। নিয়মাবলিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র পূরণের সময় শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য, পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিভাবকের তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা আবশ্যক। এতে করে পরবর্তীতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হবে।

ভর্তির আবেদন ফি ১০০ টাকা। শিক্ষার্থীরা এই ফি পরিশোধ করতে পারবেন টেলিটকের প্রি-পেইড মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করে। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করার ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে সুবিধাজনকভাবে আবেদন সম্পন্ন করতে পারছেন, যা বিশেষ করে বড় শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করছে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এর আগে স্কুলে সরাসরি গিয়ে আবেদন করার কারণে অনেক সময় এবং শ্রম নষ্ট হতো। এখন অনলাইন প্রক্রিয়া তাদের জন্য বড় সহায়তা।

ভর্তির লটারির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর। লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। লটারির ফলাফলের পর প্রথম ধাপে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ১৭ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে করে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট স্কুলে ভর্তি হয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করতে পারবেন।

এবারও ভর্তির ক্ষেত্রে দুটি অপেক্ষমান তালিকা থাকবে। প্রথম অপেক্ষমান তালিকা থেকে ভর্তি হবে ২২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর, এবং দ্বিতীয় অপেক্ষমান তালিকা থেকে ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এই ধাপগুলি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ হিসেবে কাজ করবে, যারা মূল লটারিতে নির্বাচিত হননি, তারা দ্বিতীয় ধাপে সুযোগ পেতে পারেন।

অভিভাবকরা আশা করছেন, নতুন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। বিশেষ করে যারা ছোট শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলে ভর্তি হতে চান, তাদের জন্য ডিজিটাল লটারির সুবিধা অনেকটাই সুবিধাজনক। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, ভর্তির এই অনলাইন প্রক্রিয়া সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের জন্য অভিন্ন নিয়মাবলী প্রতিষ্ঠা করবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ সুযোগ নিশ্চিত করবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও আশার মিশ্র অনুভূতি দেখা যাচ্ছে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে যাওয়া শিশুর অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাদের সন্তানের জন্য সঠিক স্কুলে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলের শিক্ষার মান, পরিবেশ এবং নিরাপত্তা—এসব বিষয় বিবেচনা করে অভিভাবকরা আবেদন করছেন। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে তারা ন্যায্য সুযোগ পাচ্ছেন এবং স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, স্কুলভিত্তিক এই অনলাইন ভর্তির উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার বিষয়েও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। তারা আরও জানান, প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের প্রথম ধাপকে শক্তিশালী ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তির সময় এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের মনে নিরাপত্তা এবং আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করবে।

মাউশির কর্মকর্তা ও স্কুল প্রশাসকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সময় যে কোনো সমস্যা বা প্রশ্নের জন্য হেল্পলাইন ব্যবহার করতে পারবেন। এতে করে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা সমস্যায় না পড়েন তা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই অনলাইন প্রক্রিয়া তাঁদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর হবে।

সবমিলিয়ে, আজ থেকে শুরু হওয়া এই ভর্তির প্রক্রিয়া শুধু সরকারি স্কুল নয়, বেসরকারি স্কুলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করবে, লটারির মাধ্যমে ভর্তি নিশ্চিত হবে এবং অপেক্ষমান তালিকা ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত সুযোগও নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরা উভয়েই এই প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সমান সুযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের শিশুদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা, যা শিক্ষাজীবনের প্রথম ধাপকে সহজ, নিরাপদ ও সমান সুযোগের মাধ্যমে গড়ে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত