সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে জোড়া গোল—চেলসির ফাইনালে পথ দেখালেন জোয়াও পেদ্রো

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৪ বার
সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে জোড়া গোল—চেলসির ফাইনালে পথ দেখালেন জোয়াও পেদ্রো

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফুটবলের মোহময় জগতে কখনও কখনও গল্প লিখে দেন খেলোয়াড়রাই। যে গল্প বাস্তব হয়েও অবিশ্বাস্য, আবেগঘন হয়েও পেশাদার। ঠিক তেমনই এক নাটকীয় সন্ধ্যা পার করল ইংলিশ ক্লাব চেলসি ও ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্স। আর সেই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত হলেন জোয়াও পেদ্রো—যিনি এক সপ্তাহ আগেও ছিলেন না চেলসির মূল স্কোয়াডে। সাবেক ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে নেমেই করলেন জোড়া গোল। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিলো ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন চেলসি।

নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম ভাগেই নিজেকে চিনিয়ে দেন পেদ্রো। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে বক্সের বাম প্রান্ত থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে ফ্লুমিনেন্স গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। বলটা জালে জড়ানোর পর উদযাপন নয়, বরং এক ধরনের কুণ্ঠিত অভিব্যক্তিই ছিল পেদ্রোর মুখে। দু’হাত ওপরে তুলে যেন দুঃখ প্রকাশ করছিলেন তিনি। কারণ, গোলটা এসেছিল সেই ক্লাবের বিপক্ষে, যেখানে তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরু, বেড়ে ওঠা এবং ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প।

সেই গোলের পর ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্স ম্যাচে ফেরার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও প্রতিপক্ষ চেলসির রক্ষণ ছিল চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত। ২৫ মিনিটে এরকুলেসের একটি শট প্রায় নিশ্চিত গোলের পথে ছিল, কিন্তু গোললাইন থেকে তা ফিরিয়ে দেন চেলসির স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। এর পরের মিনিট দশেকের মধ্যেই ফ্লুমিনেন্স একটি পেনাল্টি আদায়ের সুযোগ পায়। রেনের নেওয়া একটি সেট পিস চেলসির ডিফেন্ডার ট্রেভর চালোবাহর হাতে লাগলেও ভিএআরের সহায়তায় রেফারি সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন এবং পেনাল্টি বাতিল করেন।

প্রথমার্ধে গোল শোধ করতে ব্যর্থ হওয়া ফ্লুমিনেন্স দ্বিতীয়ার্ধে হোঁচট খায় আরও একবার। এবারও তাদের সর্বনাশের কারিগর সেই জোয়াও পেদ্রো। ম্যাচের ৭২ মিনিটে চেলসির অধিনায়ক এনজো ফের্নান্দেজের পাস থেকে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ফলাফল দাঁড়ায় ২-০, যা আর বদলায়নি।

এই জয় চেলসির জন্য নিছক একটি ম্যাচজয় নয়। এটা ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ। কারণ চলতি মৌসুমে চেলসির পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। ঘরোয়া প্রিমিয়ার লিগে তারা ছিল মাঝামাঝি অবস্থানে, দুটি স্থানীয় টুর্নামেন্ট থেকেও ছিটকে গেছে শুরুর দিকেই। একমাত্র বড় সাফল্য ছিল কনফারেন্স লিগ শিরোপা। তাই এমন এক দুর্দিনে ৩২ দলের নতুন কাঠামোয় আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা কোচ এনজো মারেস্কার দলের জন্য বড় প্রাপ্তি বলেই ধরা যায়।

২০১২ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসি ফাইনালে উঠেও হেরে গিয়েছিল ব্রাজিলিয়ান ক্লাব করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে। যদিও ২০২১ সালে তারা ঘুচিয়েছিল সেই শিরোপা খরা—পালমেইরাসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরা ক্লাব হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এবার আবারও সেই মঞ্চে, আর প্রতিপক্ষ কে হবে তা নির্ধারিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পর। তবে এটুকু নিশ্চিত যে প্রতিপক্ষ হবে ইউরোপিয়ান ক্লাবই—ফলে টানা ১৩তম বারের মতো ইউরোপিয়ান ক্লাবই জিতবে ক্লাব বিশ্বকাপ।

এবার ফাইনালে আরেকটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ চেলসির সামনে। এবং যে পেদ্রো প্রথমে ছিলেন না কোনো আলোচনাতেই, তিনি হয়তো হয়ে উঠবেন ক্লাবটির স্বপ্নপূরণের মূল নায়ক। ফুটবলের এই রূপকথা আরও কী চমক দেখায়—সে অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত