তানজিন তিশা অর্থ আত্মসাত অভিযোগের জবাব দিলেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার
তানজিন তিশা অর্থ আত্মসাত অভিযোগের জেরে মুখ খুললেন

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশি অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে ঘিরে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি ভারতের বাংলা চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসার মরশুম’-এ অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে অগ্রিম টাকা গ্রহণ করার পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক দাবি করা শরীফ খান এই অভিযোগ এনেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিশা চুক্তিভঙ্গ করেছেন এবং অগ্রিম টাকা ফেরত দেওয়া থেকে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তানজিন তিশা প্রথমবারের মতো সরাসরি নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চুক্তির সময় আমাকে শুধুমাত্র এক তৃতীয়াংশ পেমেন্ট প্রদান করা হয়েছিল। সিনেমার শুটিংয়ের জন্য ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় আমি দেড় মাস কোনো কাজ করিনি। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যদি শুটিং বাতিল হয়, তবে এই অর্থ ফেরত দিতে হবে না।” তিনি আরও জানান, তার শুটিং বাতিল হওয়ার জন্য তিনি দায়ী নন এবং এটি সম্পূর্ণরূপে প্রযোজকের বা পরিচালক দলের ত্রুটির কারণে ঘটেছে।

তিশা জানান, অভিযোগকারী শরীফ খান নামক ব্যক্তি মধ্যরাতে ফোন করে অর্থ ফেরতের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, “এতো রাতে ফোন করা পেশাদার আচরণ হতে পারে না। আমি দিনের সময় যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। তাছাড়া, তিনি প্রকৃত প্রযোজক নন।” তিশা এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক এবং পেশাদার নিয়মের প্রতি সচেতন থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিশার আইনজীবী জসিম উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, “তানজিন তিশা চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। তিনি শিডিউল মেনে কাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সিনেমাটির পরিচালক ভিসা এবং শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তিশাই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, অভিনেত্রীর দায়িত্ব সীমাবদ্ধ ছিল, এবং তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা অনির্ভরযোগ্য এবং চুক্তিভঙ্গের দায়িত্ব পুরোপুরি প্রযোজক ও পরিচালক দলের উপর বর্তায়।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ও বিনোদন অঙ্গনের একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা শিল্পী ও প্রযোজক দলের মধ্যে পেশাদারিত্বের ঘাটতি প্রকাশ করে। প্রায়শই আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে অভিজ্ঞতা কম থাকা বা তথ্যের অভাব শিল্পীদের বিপদের মুখে ফেলতে পারে। তানজিন তিশার পরিস্থিতি এমন একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে চুক্তির স্পষ্ট শর্ত থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগের ত্রুটি এবং অসমঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।

অভিনেত্রী নিজে বলছেন, তিনি যে সময়ের জন্য শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারলেন না, তা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। ভিসা প্রসেসের দীর্ঘ সময় এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জটিলতা চলচ্চিত্রের শিডিউল ব্যাহত করেছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি সর্বদা পেশাদার এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছি। কোনোভাবেই আমি টাকা আত্মসাৎ করিনি।”

চলচ্চিত্র প্রযোজক শরীফ খানের অভিযোগ এবং তিশার প্রতিক্রিয়ার এই দ্বন্দ্ব সামাজিক ও অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। দর্শক এবং অনুরাগীরা বিষয়টিকে পেশাদারিত্ব, চুক্তি পূরণের দায়িত্ব এবং শিল্পী ও প্রযোজক দলের মধ্যে সমঝোতার আলোকে বিবেচনা করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে।

অভিনেত্রী তানজিন তিশার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি আইনানুগ এবং চুক্তিগতভাবে তার সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। শুটিং বাতিল এবং কাজের অনুপস্থিতি কোনোভাবেই তার দায়িত্ব নয়। তাঁর আইনজীবী জসিম উদ্দিন আরও বলেন, “চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করলে এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হবে।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বাংলাদেশি বিনোদন অঙ্গনের একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই ঘটনা থেকে শিল্পী এবং প্রযোজক উভয়কেই শিক্ষা নিতে হবে। চুক্তি ও অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা, সময়মতো যোগাযোগ এবং প্রফেশনাল আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে অংশগ্রহণের সময় এই বিষয়গুলি আরও গুরুত্বপূর্ন হয়ে দাঁড়ায়।

তিশা নিজেও জানিয়েছেন, তিনি সর্বদা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করেছেন এবং অভিযোগের ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত। এছাড়াও তিনি অনুরাগীদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, চুক্তি অনুযায়ী সবকিছু যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি কোনো অবৈধ কার্যক্রমে যুক্ত নন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনলাইনভিত্তিক একটি ফ্যাশন হাউজেও তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে তিশা ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এই নতুন অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তার পেশাগত জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবে অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি সব ধরনের আইনি ও চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করেছেন এবং তার পক্ষে আইনসম্মত প্রমাণাদি রয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিনোদন সাংবাদিকরা এবং অনলাইন কমিউনিটি তিশার অবস্থান ও প্রযোজকের দাবি বিশ্লেষণ করছেন। অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে তার পক্ষ সমর্থন জানাচ্ছেন এবং পেশাদারিত্ব রক্ষার জন্য উভয় পক্ষের সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।

সর্বশেষ, এই দ্বন্দ্বের সমাধান কেবল আইনি বা চুক্তিগত নয়, বরং চলচ্চিত্র ও বিনোদন অঙ্গনের পেশাদারিত্ব রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তানজিন তিশা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অভিযোগের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণসহ প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত