বরিশালে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৪ বার
বরিশালে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বরিশাল শহর এবং এর আশপাশের এলাকাগুলো গত চার দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতে কার্যত থমকে গেছে। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোয় পানি জমে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। একদিকে প্রধান সড়কগুলোয় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি, অন্যদিকে অলিগলি থেকে শুরু করে নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত জনজীবন এখন অচল প্রায়।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) শহরে রেকর্ড ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তারা এটিকে মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বললেও বাস্তবে বৃষ্টিপাতের মাত্রা গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।

নবগ্রাম রোড, বগুড়া রোড, অক্সফোর্ড মিশন রোডসহ শহরের মূল সড়কগুলোয় পানি জমে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে যাত্রী সাধারণ, শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন। বরিশাল শহরের প্রতিটি বড় বাজার কার্যত অচল হয়ে গেছে, দোকানপাট খুলছে না, গণপরিবহন বন্ধ। বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে জলাবদ্ধতার দুর্যোগ।

শুধু শহরেই নয়, বরিশালের উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলোতেও জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মানুষের ঘরে পানি ঢুকে গেছে, বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়-স্বজন কিংবা স্কুল ভবনের মতো সাময়িক নিরাপদ স্থানে। সড়কে পানি বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে অনেক এলাকায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। লঘুচাপের কারণে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না গিয়ে উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বারবার আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। কয়েক বছর আগে শহরের খাল পুনর্খনন ও ড্রেনেজ উন্নয়নের জন্য যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তার অনেকটাই ছিল অদক্ষ ও অপরিকল্পিত। খালগুলো দখলমুক্ত না হওয়া এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পানি নেমে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। ফলে প্রতি বছর বর্ষাকালে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে এই শহর প্রতি বছরই বৃষ্টির মৌসুমে অচল হয়ে পড়বে। খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করে পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন একমাত্র উপায়। এ ছাড়া নগরবাসীকে সচেতন করে আবর্জনা নিষ্কাশনে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কখনোই সম্ভব নয়।

বুধবার সকালে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম থাকলেও পানি নামছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ফলে ভোগান্তির অন্ত নেই। আবহাওয়া অফিস আরও পাঁচ দিনের জন্য মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। নগরবাসীর উদ্বেগ তাই কাটছে না; বরং আশঙ্কা বাড়ছে, এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত