সোহিনী ছাড়িয়ে মিমি চক্রবর্তী, বড়পর্দায় নতুন নায়িকা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
সোহিনী ছাড়িয়ে মিমি চক্রবর্তী, বড়পর্দায় নতুন নায়িকা

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টালিউডের সমালোচকপ্রিয় পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন সিনেমা ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ নির্মাণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। আগে এই চরিত্রে ছিলেন সোহিনী সরকার, কিন্তু নতুন প্রযোজন সংস্থা ‘নন্দী মুভিজ’-এর সঙ্গে কাজের শুরু হওয়ার পর নায়িকা বদলে মিমি চক্রবর্তীর উপর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু নায়িকাই নয়, রুদ্রনীল ঘোষের চরিত্রের বদলে এবার মঞ্চাভিনেতা বুদ্ধদেব দাস অভিনয় করবেন এবং সত্যম ভট্টাচার্যের চরিত্রে অভিনয় করবেন ঋক চট্টোপাধ্যায়।

‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমার নির্মাণ প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন নিয়ে অনেক ভক্ত ও চলচ্চিত্রমহলেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সৃজিত মুখোপাধ্যায় জানান, এমন ধরনের পরিবর্তন সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মতো। নভেম্বরে শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও নতুন বাছাই ও অভিনেতা-অভিনেত্রীর পরিবর্তনের কারণে তার পরিকল্পনা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রি-প্রোডাকশন কাজ শুরু হয়ে গেছে। প্রচুর মানুষ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, বেশিরভাগই ফ্রিল্যান্সার। তাদের মাসিক বেতন নেই। তাই পরিকল্পনায় এই ব্যাঘাত হলে অনেকের অসুবিধা হয়। তবে এখন সব ঠিক থাকলে জানুয়ারি থেকে শুটিং শুরু হবে।”

মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দফায় মিটিং হয়েছে। ‘গানের ওপারে’ এবং ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমায় মিমির অভিনয় দক্ষতা দর্শকরা ইতিমধ্যেই দেখতে পেয়েছেন, তবে এটি তার প্রথমবারের মতো সৃজিতের পরিচালনায় নায়িকা হিসেবে বড়পর্দায় অভিষেক। পরিচালক ছোটপর্দার সেই সাবেকি মিমিকে বড়পর্দায় নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে আগ্রহী।

সিনেমার সংগীত পরিচালনার দায়িত্বও সৃজিত নিজেই সামলাচ্ছেন। যদিও তিনি আগে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীত পরিচালনার কাজ করেননি, তবুও তার পূর্ব অভিজ্ঞতা সিনেমার সঙ্গীতের জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। সিনেমায় মোট চারটি গান থাকবে, যার মধ্যে দুটি রবীন্দ্রসংগীত। এছাড়া একটি গান লিখেছেন পরিচালক নিজেই এবং আরেকটি লেখা শ্রীজাতের। কলকাতাজুড়ে সিনেমার সেটিং ও দৃশ্যধারণ করা হবে।

নায়িকা পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সৃজিত বলেন, “সোহিনীর পরিবর্তন কেন হলো, তার সঠিক উত্তর দিতে পারেন প্রযোজক। অনেক সময় পরিচালকের সিদ্ধান্ত একা পুরোপুরি বাছাই নির্ধারণ করে না। অভিনেতাদের নির্বাচনেও প্রযোজনার নীতি, চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যান্য বিষয় জড়িত থাকে।”

প্রযোজক প্রদীপকুমার নন্দী জানিয়েছেন, নতুন প্রযোজনার সঙ্গে কাজ শুরু করতে গিয়ে সবকিছু নতুনভাবে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সৃজিতদার সঙ্গে কাজ করতে আমরা খুবই খুশি। মিমি চক্রবর্তীকেও আমরা অসাধারণ অভিনেত্রী হিসেবে দেখি। সোহিনীও ভালো নায়িকা, তবে নতুন পরিকল্পনায় মিমির উপস্থিতি গল্পের জন্য আরও মানানসই।”

পরিচালক আরও বলেন, “রুদ্রনীল আর আমি মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওই চরিত্রে বুদ্ধদেব দাস মানাবে। সত্যম ভট্টাচার্যের জন্য কিছু ওজনগত বিষয় বিবেচনা করে আমরা ঋক চট্টোপাধ্যায়কে নিয়েছি। সব কিছুই চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী।”

এভাবে ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমায় নতুন নায়িকা ও কিছু মূল চরিত্রের পরিবর্তন দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ এবং কৌতূহল তৈরি করেছে। পরিচালকের অভিজ্ঞতা, মিমি চক্রবর্তীর অভিনয় দক্ষতা এবং সৃজিতের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি সিনেমাটিকে একটি নতুন মাত্রা দিতে যাচ্ছে। জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া শুটিং এবং সিনেমার বিভিন্ন সংগীত ও দৃশ্যের প্রি-প্রোডাকশন কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়ায় দর্শকরা অপেক্ষা করছেন আবীর-মিমির নতুন রসায়ন দেখার জন্য।

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এই সিনেমা শুধুমাত্র গল্প ও অভিনয়ের জন্য নয়, বরং সংগীত ও প্রযোজনার দিক থেকেও দর্শকদের আকর্ষণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর উপস্থিতি সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রকে আরও জীবন্ত ও প্রভাবশালী করবে। পরিবর্তনের এই ধারা চলচ্চিত্র নির্মাণের জটিলতা ও পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে অভিনয়, প্রযোজনার সিদ্ধান্ত এবং পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে মিলে সিনেমার চূড়ান্ত রূপ দেয়।

বড় পর্দার এই নতুন প্রজেক্টে দর্শকরা মিমি চক্রবর্তীর অভিনয়কে নতুনভাবে উপভোগ করতে পারবেন এবং পরিচালক সৃজিতের ভিশন অনুযায়ী সিনেমার চরিত্র ও গল্প উপস্থাপনের নতুন মান পাবেন। পরিবর্তন এবং নতুন সূচনার এই সমন্বয় ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমাকে টালিউডের উল্লেখযোগ্য সিনেমা হিসেবে পরিচিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত