ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিয়ে নয়াদিল্লির দাবি নাকচ করল ওয়াশিংটন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ২৫ বার
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিয়ে নয়াদিল্লির দাবি নাকচ করল ওয়াশিংটন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পেছনে কোনো বিদেশি ভূমিকা ছিল না—ভারতের এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন সক্রিয় এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। এমন অবস্থান ভারতের ‘দ্বিপাক্ষিক সমাধান’-নীতির পুরোপুরি পরিপন্থী।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস ওয়াশিংটনে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ আমরা থামিয়েছি। এটাই সত্য।” তার এই বক্তব্য ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির সাম্প্রতিক বিবৃতির পুরোপুরি বিপরীত, যেখানে তিনি দাবি করেন যে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত দু’দেশের যৌথ সিদ্ধান্ত এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত ছিল না।

ব্রুস আরও জানান, এই উত্তেজনা হ্রাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “যারা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়াটি একান্তভাবেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তারা সঠিক তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব শান্তির স্বার্থে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য।”

সামা টিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রুসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রতিহত করতে এবং পারমাণবিক উত্তেজনা থেকে অঞ্চলটিকে সরিয়ে আনতে যে কৌশলগত তৎপরতা চালিয়েছেন, তা ছিল সুপরিকল্পিত এবং সময়োপযোগী। ব্রুসের ভাষায়, “বিশ্ব জানে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।”

ভারতের সংসদের পররাষ্ট্র কমিটির বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছিলেন, “দুই দেশের মধ্যে সীমিত পর্যায়ের সামরিক উত্তেজনা হয়েছিল। তবে বিষয়টি কখনোই পারমাণবিক হুমকিতে গড়ায়নি। যুদ্ধবিরতি একান্তই ভারতের কূটনৈতিক দক্ষতার ফল।” তার এই দাবি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য বিরোধিতার মুখে পড়েছে।

মার্কিন মুখপাত্র ব্রুস সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “সবাই তাদের মতামত দিতে পারে, কিন্তু যখন তা বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তখন সংশোধন জরুরি। ভারত যেভাবে এই পরিস্থিতিকে একতরফাভাবে ব্যাখ্যা করছে, তা ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।”

এ সময় ব্রুস গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, হামাসমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। একইভাবে তিনি আর্মেনিয়া-আজারবাইজান বিরোধেও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা শুধু এ অঞ্চলেই নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকারোক্তি এবং ভারতের নিজেকে একমাত্র শান্তিপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দাবি করার প্রচেষ্টা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাস্তবচিত্রে ভিন্নতা সৃষ্টি করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে—যেখানে একদিকে রয়েছে নয়াদিল্লির আত্মবিশ্বাসী অবস্থান, অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় এবং ভিন্নধর্মী কূটনৈতিক অবস্থান। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার নিরিখে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত