প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে পড়া ১৬২ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফিরেছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় বুধবার (৯ জুলাই) সকালে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দীর্ঘদিন আটক অবস্থায় থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের প্রত্যাবর্তন যেমন ছিল স্বস্তিদায়ক, তেমনি প্রবাসী কল্যাণ এবং দূতাবাসের কার্যকর ভূমিকাও এ ঘটনার পেছনে ছিল বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।
এই ১৬২ জনের মধ্যে ১৪১ জন ছিলেন লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক, ১৬ জন ত্রিপলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে এবং বাকি ৫ জন ছিলেন বিপদগ্রস্ত অবস্থায় ত্রিপলিতে। আটকদের মধ্যে অনেকেই একাধিক মাস ধরে বন্দিদশায় জীবন কাটাচ্ছিলেন, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল বহুবার। এসব পরিস্থিতি দূর করতে এবং আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে দূতাবাস ধারাবাহিকভাবে লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে।
ফেরত আনা নাগরিকরা লিবিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন আইওএম কর্তৃক ভাড়া করা বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে। ফ্লাইটটি মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে লিবিয়ার বেনিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঢাকায় পৌঁছানোর মাধ্যমে তারা বন্দিদশা ও অনিশ্চয়তার চক্র থেকে অবশেষে মুক্তি লাভ করেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (শ্রম) গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল লিবিয়ার বেনিনা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের বিদায় জানান। প্রতিনিধি দল তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি আশ্বাস দেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস আরও সক্রিয় থাকবে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এর আগেই প্রতিনিধি দল গানফুদা ও তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে প্রত্যেক অভিবাসীর সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেন। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং আইওএম-এর সার্বিক সহযোগিতায় বন্দিদের বাংলাদেশে পাঠানো হয় সম্পূর্ণ বিনা খরচে।
বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় অভিবাসীদের জটিল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি শুধু মানবিক সহানুভূতির পরিচয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধেরও বাস্তব উদাহরণ। দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবায়িত এ উদ্যোগ প্রমাণ করে, অভিবাসী কল্যাণে সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের এখন পরবর্তী পুনর্বাসন ও সামাজিক সহায়তার জন্য প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলো কাজ করবে। পাশাপাশি, সরকার এবং আইওএম ভবিষ্যতে যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে আরও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।