কুয়েতে চালু হলো ই-ভিসা: নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত, উপকৃত হবেন বাংলাদেশিরাও

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ১৬০ বার
কুয়েতে চালু হলো ই-ভিসা: নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত, উপকৃত হবেন বাংলাদেশিরাও

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশ কুয়েতের ই-ভিসা চালু করার সিদ্ধান্ত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক আধুনিকায়নের উদাহরণ নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল, যা বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ী জনগোষ্ঠীর জন্যও নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পারিবারিক সংযোগের সম্ভাবনাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে পর্যটন, ব্যবসা, পারিবারিক ভ্রমণ এবং সরকারি প্রতিনিধিদের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজতর হয়েছে। এখন থেকে যে কেউ অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ই-ভিসার আবেদন করতে পারবেন—এতে দীর্ঘসূত্রতা, দাপ্তরিক জটিলতা ও অতিরিক্ত খরচ বহুলাংশে কমে আসবে।

নতুন এ ব্যবস্থায় পর্যটন ভিসা মিলবে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য, আর পারিবারিক ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসার মেয়াদ হবে ৩০ দিন। শুধুমাত্র বিদেশি পর্যটকদের জন্য নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা লাখো বাংলাদেশি অভিবাসী যারা পরিবার আনতে চান কিংবা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ঘন ঘন যাতায়াত করেন—তাদের জন্যও এটি বাস্তবিক অর্থে আশার আলো হয়ে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে কুয়েতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটি শিগগিরই জিসিসি (Gulf Cooperation Council) গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে, যেখানে ছয়টি উপসাগরীয় দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—একক একটি ভিসার আওতায় পরস্পরের মধ্যে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগ শুধু পর্যটন খাতকেই নয়, ব্যবসায়িক সম্পর্ককেও এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে।

বাহরাইন বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের সভাপতি আইনুল হক সরকার এই প্রসঙ্গে বলেন, “কুয়েত ই-ভিসা চালু করে প্রবাসী ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই বড় একটি সুযোগ তৈরি করেছে। জিসিসি ভিসা কাঠামোর আওতায় ছয়টি উপসাগরীয় দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি যৌথ ব্যবসায়িক প্লাটফর্ম গঠনের আলোচনা চলছে।”

এদিকে কুয়েত বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি লুৎফর রহমান মুখাই আলী বলেন, “আমরা একটি শক্তিশালী মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনা করছি, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যসমূহ—বিশেষত কৃষিপণ্য, তৈরি পোশাক এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা—মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে আরো দৃঢ়ভাবে প্রবেশ করতে পারবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের এই ই-ভিসা ব্যবস্থা একদিকে যেমন প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে, তেমনি ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে, দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমজীবী মানুষদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

সবমিলিয়ে কুয়েতের ই-ভিসা ব্যবস্থা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক উন্নয়ন নয়, বরং এটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দরজাগুলো আরও প্রশস্ত করে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত