চীনের ওপর কঠোর বার্তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের: রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলে খেসারত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ২২ বার
চীনের ওপর কঠোর বার্তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের: রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলে খেসারত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় চীনকে প্রকাশ্য হুমকি দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে বেইজিং যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়, তাহলে ইইউ-চীন সম্পর্কে আরও সংকট তৈরি হবে।

মঙ্গলবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে ভন ডের লেইন বলেন, চীন কার্যত রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে, যা ইইউর জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এখন চীনের জন্য একটি ‘নির্ধারক’ পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভন ডের লেইনের ভাষায়, “চীন পুতিনের যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে বজায় রাখবে, সেটাই নির্ধারণ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন দিকে যাবে।”

এছাড়া তিনি বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন’ চালানোর অভিযোগও তোলেন। তার অভিযোগ, চীন ভর্তুকি দেওয়া সস্তা পণ্যে বিশ্ববাজার প্লাবিত করছে, যাতে ইউরোপীয় প্রতিযোগীরা হুমকির মুখে পড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একধরনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে।

চীন অবশ্য বরাবরের মতোই ইউক্রেন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানকে নিরপেক্ষ বলেই দাবি করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “চীন ইউক্রেন ইস্যুতে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না। আমাদের অবস্থান শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও সংঘাত নিরসনে রাজনৈতিক সমাধানকে সমর্থন করে।” তিনি আরও বলেন, “এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত কারো জন্যই কল্যাণকর নয়, বরং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়েই কেবল এর সমাধান সম্ভব।”

চীন বারবার রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের ‘একতরফা নিষেধাজ্ঞা’র বিরোধিতা করে আসছে এবং একইসঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাবও দিয়ে আসছে। মাও নিং স্পষ্ট করে বলেন, “চীন শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং সংঘাত নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের মে মাসে মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেন। সেখানে তারা দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এই বৈঠকই ইঙ্গিত দেয়—চীন ও রাশিয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং এ অবস্থান থেকে সহজে সরে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই হুঁশিয়ারি শুধু কূটনৈতিক ভাষায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপে চীনা প্রযুক্তি, যানবাহন ও বিনিয়োগ যেভাবে বাড়ছিল, তা আগামীতে সীমাবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে, যেখানে রাশিয়া-চীন বন্ধুত্ব একদিকে, আর ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র জোট অন্যদিকে অবস্থান নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল ইউক্রেন যুদ্ধকেই দীর্ঘায়িত করছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত