প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নোয়াখালীর সদর উপজেলার সোনাপুরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ছায়া নেমে এসেছে, যখন বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিআরটিসি ডিপোর দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় বাস দুটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সোনাপুর বিআরটিসি ডিপোতে প্রতিদিন মোট ২১টি বাস চলাচল করে। ওই রাতে দু’টি বাসে হঠাৎ আগুন লাগে এবং দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাইজদী ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিটকে দ্রুত পাঠায়। তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ‘গুলবাহার’ এবং ‘মালতি’ নামের দুটি বাসের উপরের অংশ পুড়ে যায়, আর একটি বাস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সোনাপুর বিআরটিসি ডিপোর ম্যানেজার মো. আরিফুর রহমান তুষার জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন।
সুধারাম থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তদন্ত শেষে অগ্নিসংযোগের কারণ জানা যাবে, এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা দেওয়াল টপকিয়ে ডিপোর ভিতরে প্রবেশ করে বাসে আগুন লাগিয়েছে এবং দ্রুত চলে গেছে।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া বিআরটিসি কর্তৃপক্ষও পুলিশকে একটি এজহার জমা দিয়েছে।
নোয়াখালীর বাস পরিবহন কার্যক্রমের উপর এ ধরনের ঘটনা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং বিভিন্ন দৈনন্দিন যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে, এবং পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তার ওপর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অগ্নিসংযোগ শুধু সম্পদ ক্ষতি নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই ধরনের অগ্নিসংযোগ পুনরায় ঘটতে পারে যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর না করা হয়। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, ডিপোর নিরাপত্তা বাড়ানো এবং রাতের সময় বিশেষ পর্যবেক্ষণ চালানো উচিত, যাতে বাসগুলো এবং যাত্রীরা সুরক্ষিত থাকতে পারে।
নিরাপত্তা ও তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, অগ্নিসংযোগের পেছনে মূল উদ্দেশ্য বা সংগঠনের তথ্য এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তারা আশ্বাস দিয়েছেন, সকল প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও সিসি ফুটেজ যাচাই করে দোষীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সুধারাম থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। নোয়াখালীর সাধারণ মানুষও পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে স্থানীয় জনগণ মিলে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।