প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আজ অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভুটানি রাষ্ট্রদূত দাশো কারমা হামু দর্জি। এই সাক্ষাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন এক দিগন্তের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভুটানের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত দর্জি তার দেশের প্রধানমন্ত্রী দাশো ত্সেরিং তোবগের শুভেচ্ছা বার্তা অধ্যাপক ইউনূসের হাতে তুলে দেন এবং একইসঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষায় ভুটানি শিক্ষার্থীদের সুযোগ, অবকাঠামোগত সহায়তা এবং বাংলাদেশে একটি ভুটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সরকারের সহযোগিতা ভুটানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এ সময় ভুটানকে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত অবকাঠামোগত সুবিধাগুলোর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য এখনো অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দু’দেশের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ করে দুই দেশের তরুণ সমাজ যেন একে অপরের দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে পারস্পরিক সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারে এবং এ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন। ইউনূস বলেন, “এই অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সাক্ষাৎকালে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এর চেতনা পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সার্কের মূল চেতনাকে ধরে রাখা এবং তা কার্যকরভাবে চালিয়ে যেতে বাংলাদেশ বরাবরই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাষ্ট্রদূত দর্জি তার বক্তব্যে ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার উপর জোর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার দায়িত্বকালে এই সম্পর্ক আরও মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
সাক্ষাৎ শেষে অধ্যাপক ইউনূস নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।