প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) অসৌজন্যমূলক ও অপেশাদার আচরণের জন্য জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের শুটিং সেটে ইরফান সাজ্জাদ টেলিভিশনের সাংবাদিক ও বাচসাসের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মহিব আল হাসানের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে দুর্ব্যবহার করেছেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা এই আচরণে হতবাক হয়ে পড়েন।
বাচসাসের সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ ও সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল উল্লেখ করেছেন, একজন চলচ্চিত্র তারকা থেকে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ, হুমকিমূলক ও অরুচিকর মন্তব্য মোটেও প্রত্যাশিত নয়। তাদের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘এ আচরণ শুধুমাত্র অপেশাদার নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপের সমতুল্য।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিবেদনের বিষয় নিয়ে ইরফান সাজ্জাদ যদি অসন্তুষ্ট হন, তবে গণমাধ্যমের প্রচলিত নীতি অনুযায়ী প্রতিবাদ করার যথাযথ প্রক্রিয়া ছিল। কিন্তু তা না করে সরাসরি সাংবাদিকের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাচসাস এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও জনগণের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শুটিং স্পটে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রথমে বিষয়টি মৃদু মন্তব্য হিসেবে নেবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অভিনেতার আচরণ এতটাই উদ্দাম ও হুমকিমূলক ছিল যে, সাধারণভাবে শালীন আচরণের প্রত্যাশা থাকা সাংবাদিকরাও পরিস্থিতি সামলাতে পারলেন না। শুটিং সেটে কাজ চলাকালীন সময় এমন আচরণ ছত্রভঙ্গি সৃষ্টি করেছিল এবং পেশাদার পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
বাচসাসের সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি আমাদের সমর্থন ও শ্রদ্ধা অপরিসীম। কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শিল্পী হিসেবে ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি প্রকাশের অধিকার থাকলেও তা কখনো সাংবাদিকদের উপর হুমকি বা অপমান হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়।’
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, এই ধরনের আচরণ যদি শালীন ও সমঝোতাপূর্ণ পদ্ধতিতে মোকাবেলা করা না হয়, তবে তা চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। শুটিং সেট ও অন্যান্য জনসমাগমে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা সকলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন আচরণ চলচ্চিত্র শিল্পের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি প্রকাশের পদ্ধতি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক বলেন, গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি অসৌজন্যমূলক আচরণ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি নয়, বরং এটি পেশাদার পরিবেশে হস্তক্ষেপের নিদর্শন।
বিচার বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পেশাদারিত্ব ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার দিক থেকে বাচসাসের তৎপরতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ব্যক্তিগত মনোভাব ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে সঠিক সমঝোতা অপরিহার্য।
অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন অভিনেতার জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতার সঙ্গে তার দায়িত্ববোধও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা এই দিক থেকে অত্যন্ত জরুরি।
বাচসাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য শুধু একজন শিল্পীর আচরণকে সমালোচনা করা নয়, বরং চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং পেশাদার পরিবেশে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংগঠনটি আশা করছে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর ঘটবে না এবং শিল্পী ও সাংবাদিকরা একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রেখে কাজ করতে পারবেন।