মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা: সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৬ বার
মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা: সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। এই ধারাবাহিকতায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে জেদ্দায় বৈঠক করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন শেষে আরাঘচির ফেরার পথে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার দুই সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আশা প্রকাশ করেন, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে এবং এটি একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের টেকসই শান্তির জন্য পারস্পরিক মতপার্থক্য নিরসনে আলোচনার পথকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক সমঝোতার গুরুত্বকে তিনি আবারও তুলে ধরেন।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বৈঠকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি নেতৃত্বের বিশেষ করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রশংসা করেন। আরাঘচি সৌদি আরবের সাম্প্রতিক উদ্যোগ ও অঞ্চলিক সংকট নিরসনে অব্যাহত ভূমিকার জন্য তাদের কৃতজ্ঞতা জানান।

বৈঠকে আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিক এবং নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সৌদি এই ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বৈরিতার জট কিছুটা হলেও শিথিল করছে। সম্প্রতি চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত ভূমিকার পর এই দুই শক্তিধর মুসলিম দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল ভাঙার যে চেষ্টাগুলো চলছে, তা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়নযোগ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বারবার সংঘাতের সম্ভাবনার মধ্যে এ ধরনের কূটনৈতিক সংলাপ শুধুমাত্র দুই দেশের জন্যই নয়, বরং গোটা অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠছে। বিশেষত ইসরাইলকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি-ইরান নতুন কূটনৈতিক সমঝোতা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত