‘ধুরন্ধর’ মুক্তি, সীমান্তে নতুন বিতর্কের আগুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৪ বার
‘ধুরন্ধর’ মুক্তি, সীমান্তে নতুন বিতর্কের আগুন

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’ ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তে নতুন বিতর্কের আগুন জ্বালিয়েছে। ছবিটি মূলত করাচির লিয়ারি গ্যাং যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত হলেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রায় বাদ দিয়ে শুধুমাত্র অ্যাকশন ও দেশপ্রেমের টোনে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের উচ্চপ্রোফাইল অভিনেতাদের উপস্থিতি থাকলেও দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র প্রতিফলন দেখাচ্ছে।

ছবির পাকিস্তানি দর্শকদের মধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রপাগান্ডা এবং ইতিহাসের উপস্থাপনা। অনেক দর্শক মনে করছেন, চলচ্চিত্রকাররা পাকিস্তানের বাস্তব ইতিহাসের পরিবর্তে ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে গল্প উপস্থাপন করেছেন। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিলাল হাসান বলেছেন, “ছবিটি নির্মাণে চমৎকার, অ্যাকশন দৃশ্যও দুর্দান্ত, অক্ষয় খন্নার অভিনয় প্রশংসনীয়। কিন্তু শেষের দিকে পাকিস্তান-বিরোধী সংলাপ আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রপাগান্ডা স্পষ্ট হয়ে যায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, লিয়ারি গ্যাং যুদ্ধের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িত থাকায় অন্য কেউ গল্প বললে তা ব্যথা দেয়।

ভারতীয় দর্শকরাও ছবির রাজনৈতিক বার্তাকে উপেক্ষা করেননি। হৃত্বিক রোশন বলেছেন, সংবেদনশীল ইতিহাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের ‘বিশ্বনাগরিক হিসেবে দায়িত্ব’ পালন করা উচিত। সমালোচক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারীরাও এই মত প্রকাশ করেছেন।

ছবিতে করাচির চরম উপস্থাপনা দর্শকদের হতাশ করেছে। বোমা বিস্ফোরণ এবং ক্রমাগত সহিংসতার দৃশ্য শহরটিকে যেন শুধুমাত্র অ্যাকশন-ফিল্মের সেটে পরিণত করেছে। বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের সাংবাদিক হারুন রশিদ ভিডিও পোস্ট করে দেখিয়েছেন, বাস্তব করাচিতে খাবার, সংগীত এবং দৈনন্দিন জীবনের উষ্ণতা আরও প্রকৃত। এই তুলনা করে দর্শকরা ছবির উপস্থাপনাকে অতিরিক্ত কল্পিত মনে করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের প্রধান কারণ হলো প্রপাগান্ডা ও ভুল উপস্থাপন। পাকিস্তানি দর্শকরা প্রশ্ন তুলছেন, কেন দেশটি নিজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিজেরা তুলে ধরতে পারছে না, আর অন্যরা তা নিজেদের মতো উপস্থাপন করছে। ফলে বলিউডের সিনেমা আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে এবং দর্শকদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ছবিটির মুক্তি সীমান্তের দুই পাশে আলোচিত হলেও পাকিস্তানি দর্শকরা মূল সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন যে তাদের নিজস্ব গল্প বলার সুযোগ নেই। ফলে তাদের ইতিহাসকে অন্যরা বিকৃতভাবে দেখাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সিনেমার জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ককেও জোরদার করেছে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র সমালোচকরা মনে করছেন, ‘ধুরন্ধর’-এর অ্যাকশন দৃশ্য এবং অভিনয়ের মান প্রশংসনীয় হলেও রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। এই ধরনের চলচ্চিত্র যে শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং দর্শকের মনোভাব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে, তা স্পষ্ট।

অবশ্য ছবির নির্মাতারা বলছেন, মূল উদ্দেশ্য ছিল দর্শককে আকর্ষণীয় গল্পের মাধ্যমে বিনোদন দেওয়া। রাজনৈতিক দিকটি কমিয়ে অ্যাকশন ও দেশপ্রেমকে কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে। তবে দর্শকরা ইতিমধ্যেই ছবির বার্তা ও ইতিহাসের উপস্থাপনাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ‘ধুরন্ধর’-এর মুক্তি শুধু বলিউডের একটি নতুন অ্যাকশন সিনেমা হিসেবে নয়, বরং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ও ইতিহাসের উপস্থাপনার নতুন বিতর্কেরও সূচনা করেছে। ছবিটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং বিশেষভাবে পাকিস্তানি দর্শকের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই বিতর্কের ফলে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক দর্শক শ্রেণির প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নতুনভাবে সামনে এসেছে। দর্শকরা চাইছেন, ইতিহাস এবং বাস্তব ঘটনাকে কেবল বিনোদনের মাধ্যমে নয়, সত্যের সঙ্গেই উপস্থাপন করা হোক।

চূড়ান্তভাবে, ‘ধুরন্ধর’-এর মুক্তি দেখিয়েছে যে সিনেমা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও তার প্রভাব থাকতে পারে। ফলে বলিউড এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে যে, দর্শকরা ইতিহাস এবং সত্যের সঙ্গে বিনোদনের সমন্বয় আশা করেন।

এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও উস্কানিমূলক হতে পারে, কারণ দর্শকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়ভাবে এই বিষয় নিয়ে মতামত বিনিময় করছেন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই ঘটনার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।

‘ধুরন্ধর’-এর মুক্তি এবং তার পরবর্তী বিতর্কের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, চলচ্চিত্র শুধুমাত্র বিনোদন নয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত