রণবীরের ‘ধুরন্ধর’ ভেঙে দিল বলিউডের সব পুরনো রেকর্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৯ বার
রণবীর সিং ধুরন্ধর রেকর্ড

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডে নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছে রণবীর সিং অভিনীত সিনেমা ‘ধুরন্ধর’। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করতেই এই স্পাই থ্রিলার ধারা সিনেমা বলিউডের বড় বড় ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় এবং নির্মাণের উদ্ভাবনী কৌশল সিনেমাটিকে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে ধরেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাওয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তির দিন হিসেবে ৫ ডিসেম্বরের পর দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটির আয় দাঁড়ায় ৩৪.৭০ কোটি রুপি। এতে পেছনে পড়েছে ‘পুষ্পা ২’ (২৭.৫০ কোটি), ‘ছাভা’ (২৪.০৩ কোটি), ‘অ্যানিমেল’ (২৩.৫৩ কোটি), ‘গদর ২’ (২০.৫০ কোটি) এবং ‘বাহুবলী ২’ (১৯.৭৫ কোটি টাকা)। অন্যদিকে আনন্দবাজারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ধুরন্ধর’ ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘স্ত্রী ২’ এবং রণবীর সিংয়ের পূর্বের হিট ‘সিম্বা’-কেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।

ছবিমুক্তির নবম দিনেই সিনেমাটি নিজের দেশে ৩০০ কোটির ব্যবসা পার করেছে। বিশ্বব্যাপী ‘ধুরন্ধর’ আয় করেছে ৪৪৫.২৫ কোটি টাকা। এ কারণে চলচ্চিত্র সমালোচক তরণ আদর্শ ‘ধুরন্ধর’কে বলিউডের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক সিনেমা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি টুইটারে লিখেছেন, “‘ধুরন্ধর’ রেকর্ড বই নতুন করে লিখছে। বক্স অফিসে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ের মতো আচরণ করছে। ধীরগতির কোনও লক্ষণই দেখাচ্ছে না।”

‘ধুরন্ধর’ সিনেমা নির্মিত হয়েছে হামজা আলি মাজারি নামের রহস্যময় চরিত্রকে কেন্দ্র করে। সিনেমায় সংসদ বিস্ফোরণ, মুম্বাইয়ের তাজ হোটেল হামলা, বিমান ছিনতাইয়ের মতো উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা দেখানো হয়েছে। সিনেমার গল্পে আড়ালে থাকা নায়কদের জীবন ও তাদের লুকানো কর্মকাণ্ডও উঠে এসেছে। রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর মাধবন এবং অর্জুন রামপাল।

ছবির সাফল্যের পিছনে রয়েছে রণবীর সিংয়ের অভিনয় দক্ষতা। তার চরিত্রের প্রতি নিবেদিত মনোভাব, সংলাপের স্বাভাবিকতা এবং অ্যাকশন দৃশ্যে প্রাধান্য তাকে দর্শকদের কাছে আরও প্রিয় করেছে। এছাড়া সিনেমার চিত্রগ্রহণ, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস এবং প্রেক্ষাপটের উৎকর্ষতার কারণে দর্শকরা পুরো সিনেমার মধ্যে ডুবে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সিনে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ধুরন্ধর’ ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পদ্মাবতী’র ৪০০ কোটির ব্যবসাকেও পেছনে ফেলে দিতে সক্ষম। সিনেমাটির সাফল্য কেবল বক্স অফিসে নয়, এটি বলিউডের চলচ্চিত্র নির্মাণ ও গল্প বলার মানদণ্ডকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দর্শকরা সিনেমার গল্প, নাটকীয়তা এবং অভিনয়ের সংমিশ্রণে মুগ্ধ হয়ে উঠেছেন।

রেকর্ড ভাঙা আয় এবং ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ‘ধুরন্ধর’কে শুধু একটি সিনেমা হিসেবে নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। সিনেমার গল্পের গতি, চরিত্রের গভীরতা এবং বাস্তবমুখী থ্রিলার উপাদান দর্শকদের আর্কষণ বাড়িয়েছে। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের দলও এই সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এভাবে ‘ধুরন্ধর’ বলিউডে নতুন ইতিহাস তৈরি করছে। সিনেমার বক্স অফিস সাফল্য, সমালোচকদের প্রশংসা এবং দর্শকদের প্রাধান্য এটিকে বলিউডের অন্যতম প্রধান মেগা ব্লকবাস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই সিনেমার প্রভাব চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘকাল ধরে প্রতিফলিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত