ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৫২ বার

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুই কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছেন মাহমুদ খলিল নামে এক ফিলিস্তিনপন্থী মানবাধিকার কর্মী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং এপি জানিয়েছে, বেআইনীভাবে দীর্ঘ সময় আটক রাখার পাশাপাশি তার সুনাম ক্ষুণ্ণ ও হয়রানির অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে সরাসরি বিবাদী করা হয়েছে। মাহমুদ খলিল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই মামলা শুধু তার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ ও ‘কণ্ঠরোধের’ রাজনীতি প্রকাশেরও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিল যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র আন্দোলনের একজন সরব কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি সংহতি আন্দোলন তুঙ্গে, তখনই তিনি সরাসরি মাঠে নেতৃত্ব দেন। খলিল অভিযোগ করেছেন, এই আন্দোলন দমাতে তাকে বেআইনীভাবে গ্রেপ্তার ও দীর্ঘমেয়াদে আটক রাখা হয়।

তার ভাষায়, যদি শাসকরা মনে করে তারা কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে, তবে জনগণের বাকস্বাধীনতা চিরতরে হুমকির মুখে পড়বে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিপূরণের অর্থ পেলে সেটি সেইসব আন্দোলন ও মানুষের জন্য ব্যয় করা হবে, যারা ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন।

সিরিয়ার দামেস্কে জন্ম নেওয়া মাহমুদ খলিল শিক্ষার্থী থাকাকালে কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের মুখপাত্র ছিলেন। বিক্ষোভের সময়ই তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। এপি’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চে নিউ ইয়র্ক সিটির নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সাদা পোশাকের অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান। গর্ভবতী স্ত্রী নূর আবদাল্লা সেই পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

গ্রেপ্তারের পর নিউ ইয়র্ক থেকে নিউ জার্সি হয়ে লুইজিয়ানার একটি আটক কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয় মাহমুদ খলিলকে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপরাধের অভিযোগই আনা হয়নি। তবুও তিন মাসের বেশি সময় তিনি বন্দি ছিলেন বলে দাবি করেছেন।

মানবাধিকার কর্মী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন খলিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের ওপর এই ধরনের দমন-পীড়ন কখনোই সাফল্য বয়ে আনবে না। নিজের প্রত্যাবাসনের হুমকির মুখেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই মামলা কতদূর গড়ায় বা মাহমুদ খলিল কতটা ন্যায়বিচার পেতে সক্ষম হন, সেটি এখন দেখার বিষয়। তবে এ মামলা নতুন করে মার্কিন মানবাধিকার রেকর্ড এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত