দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলোচিত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মো. নাসিরুল ইসলাম জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদকের দায়ের করা মামলায় আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও ব্যাংকিং সেক্টরে প্রভাব খাটিয়ে স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগে দুদক গত বছর মামলাটি দায়ের করে। সেই মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। অবশেষে গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধানমণ্ডির একটি বাড়িতে অবস্থানকালে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবুল বারকাত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে তাকে ডিবি কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুদকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। দুদকের অনুসন্ধান ও নথিপত্র যাচাইয়ে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাংকিং সেক্টর ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একসময় ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের অনিয়মের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে আবুল বারকাতের পক্ষের কোনো আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যরা এখনও গণমাধ্যমে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। দুদকের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, জনতা ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ব্যাংকটির কিছু কর্মকর্তা জানান, এর ফলে ব্যাংকের বর্তমান কার্যক্রমে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটবে না।

দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক জনতা ব্যাংক বহু বছর ধরেই নানা অনিয়ম, খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক দুর্বলতার কারণে আলোচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন মামলা ও গ্রেপ্তার ব্যাংক খাতের নজরকাড়া আরেকটি অনিয়মের গল্প হিসেবে নতুন করে সামনে এলো।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত