প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে নিখোঁজ যুবক জসিম উদ্দিনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জসিম উদ্দিন (৩৫) পেশায় কৃষক এবং দুই সন্তানের জনক। তিনি দৌলতপুর গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুর ইউনিয়নের টেংরাখালীর একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়, যা গ্রামের মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে জসিম উদ্দিন মাঠ থেকে গরুর ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুর ও বিকেল গড়িয়ে যাওয়ার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যার পরে নিখোঁজের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা হয়ে যায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা টেংরাখালী মাঠের ভুট্টাক্ষেতের মধ্যে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের গৃহশিক্ষক বন্ধু ও গ্রামবাসী মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, লাশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। জসিমের গলায় ফাঁস লাগানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, এ ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে এবং প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জসিম উদ্দিন ছিলেন শান্তিপ্রিয় মানুষ। তিনি গ্রামের মধ্যে পরিচিতি ও সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জীবন যাপন করতেন। তার হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত ও বর্বরভাবে করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র করেছে।
গ্রামবাসীদের মতে, এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে সময় লাগতে পারে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার চেয়েছেন এবং দাবি করেছেন, হত্যাকারীরা যেন দ্রুত আইনের আওতায় আসে।
উপজেলার অন্যান্য সাধারণ মানুষও এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত। তারা বলছেন, গ্রামে দিন দিন নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প বয়সী যুবক হত্যার মতো ঘটনা গ্রামীণ সমাজকে ভীত ও উদ্বিগ্ন করে তুলছে। গ্রামের মানুষ এখন নিরাপত্তা জোরদার এবং পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে উদ্দীপিত করেছে। নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রামীণ এলাকায় অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত অপরিহার্য।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে হত্যা ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। গ্রামবাসীরা আশা করছেন, হত্যাকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনায় ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষ শোকাহত এবং আতঙ্কিত। দুই সন্তানের জনক জসিম উদ্দিনের মৃত্যু শুধু তার পরিবারকে নয়, পুরো দৌলতপুর গ্রামবাসীকে বিচলিত করেছে। মানুষ এখন নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবিতে সতর্ক ও সক্রিয়।